(২:২৫৮) তুমি ২৮৯ সেই ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা করোনি, যে ইবরাহীমের সাথে তর্ক করেছিল ? ২৯০ তর্ক করেছিল এই কথা নিয়ে যে, ইবরাহীমের রব কে ? এবং তর্ক এ জন্য করেছিল যে, আল্লাহ তাকে রাষ্ট্রক্ষমতা দান করেছিলেন ৷২৯১ যখন ইবরাহীম বললোঃ যার হাতে জীবন ও মৃত্যু তিনিই আমার রব৷ জবাবে সে বললোঃ জীবন ও মৃত্যু আমার হাতে ৷ ইবরাহীম বললোঃ তাই যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে, আল্লাহ পূর্ব দিক থেকে সূর্য উঠান ,দেখি তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উঠাও ৷ একথা শুনে সেই সত্য অস্বীকারকারী হতবুদ্ধি হয়ে গেলো ২৯২ কিন্তু আল্লাহ জালেমদের সঠিক পথ দেখান না ৷
(২:২৫৯) অথবা দৃষ্টান্তস্বরূপ সেই ব্যক্তিকে দেখো যে এমন একটি লোকালয় অতিক্রম করেছিল, যার গৃহের ছাদগুলো উপুড় হয়ে পড়েছিল ৷২৯৩ সে বললোঃ এই ধ্বংসপ্রাপ্ত জনবসতি, একে আল্লাহ আবার কিভাবে জীবিত করবেন ? ২৯৪ একথায় আল্লাহ তার প্রাণ হরণ করলেন এবং সে একশো বছর পর্যন্ত মৃত পড়ে রইলো ৷ তারপর আল্লাহ পুনর্বার তাকে জীবন দান করলেন , এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ বলো, তুমি কত বছর পড়েছিলে ?জবাব দিলঃ এই , এক দিন বা কয়েক ঘন্টা পড়েছিলাম ৷ আল্লাহ বললেনঃ “বরং একশোটি বছর এই অবস্থায় তোমার ওপর দিয়ে চলে গেছে ৷ এবার নিজের খাবার ও পানীয়ের ওপর একবার নজর বুলাও , দেখো তার মধ্যে কোন সামান্য পরিবর্তনও আসেনি ৷ অন্যদিকে তোমার গাধাটিকে দেখো( তাঁর পাঁজরগুলোও পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ) ৷ আর এটা আমি এ জন্য করেছি যে, মানুষের জন্য তোমাকে আমি একটি নিদর্শন হিসেবে দাঁড় করাতে চাই ৷ ২৯৫ তারপর দেখো, এই অস্থিপাঁজরটি, কিভাবে একে উঠিয়ে এর গায়ে গোশত ও চামড়া লাগিয়ে দিই ৷ ” এভাবে সত্য যখন তার সামনে সুস্পষ্ট হয়ে উঠলো তখন সে বলে উঠলোঃ “আমি জানি, আল্লাহ সবকিছুর ওপর শক্তিশালী ৷ ”
(২:২৬০) আর সেই ঘটনাটিও সামনে রাখো, যখন ইবরাহীম বলেছিলঃ “আমার প্রভু! আমাকে দেখিয়ে দাও কিভাবে তুমি মৃতদের পুনজীবিত করো ৷ ” বললেনঃ তুমি কি বিশ্বাস করো না? ইবরাহীম জবাব দিলঃ বিশ্বাস তো করি, তবে মানসিক নিশ্চিন্ততা লাভ করতে চাই ৷২৯৬ বললেনঃ ঠিক আছে, তুমি চারটি পাখি নাও এবং তাদেরকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও ৷ তারপর তাদের এক একটি অংশ এক একটি পাহাড়ের ওপর রাখো৷ এরপর তাদেরকে ডাকো৷ তারা তোমার কাছে দৌড়ে চলে আসবে ৷ ভালোবাবে জেনে রাখো, আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী ও জ্ঞানময় ৷২৯৭
২৮৯. ওপরে দাবী করা হয়েছিল, মু'মিনের সায় ও সাহায্যকারী হচ্ছে আল্লাহ তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর মধ্যে নিয়ে যান আর কাফেরের সাহায্যকারী হচ্ছে,তাগুত, সে তাকে আলোকের মুখ থেকে টেনে অন্ধকারের মধ্যে নিয়ে যায়৷ এখানে এ বিষয়টির ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করার জন্য দৃষ্টান্ত স্বরূপ তিনটি ঘটনার উল্লখে করা হয়েছে৷ প্রথম দৃষ্টান্তটি এমন এক ব্যক্তির যার সামনে সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ সহকারে সত্যকে পেশ করার হয় এবং সে তার সামনে নিরুত্তর হয়ে পড়ে৷ কিন্তু যেহেতু সে আগে থেকেই নিজের লাগাম তাগুতের হাতে সঁপে দিয়েছিল তাই সত্যের উলংগ প্রকাশের পরও সে আলোর রাজ্যে পা দিতে পারেনি৷ অন্ধকারের অর্থে সমুদ্রে আগের মতোই সে হাবুডুবু বাড়ান৷ ফলে আল্লাহ তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর রাজ্যের এমনভাবে টেনে আনেন যে, অদৃশ্য গোপন সত্যের সাথে তাদের চাক্ষুষ সাক্ষাত ঘটেও যায় ৷
২৯০. সেই ব্যক্তিটি হচ্ছে নমরুদ৷ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের স্বদেশভূমি ইরাকের বাদশাহ ছিল এই নমরুদ৷ এখানে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে বাইবেলে তার প্রতি কোন ইংগিত নেই৷ তবে তালমূদে এই সমগ্র ঘটনাটিই বিবৃত হয়েছে৷ কুরআনের সাথে তার ব্যাপক মিলও রয়েছে৷ সেখানে বলা হয়েছেঃ হযরত ইবরাহীমের (আ) পিতা নমরুদের দরবারে প্রধান রাষ্ট্রীয় কর্মচারীর (Chief officer of the state) পদে অধিষ্ঠিত ছিল৷ হযরত ইবরাহীম (আ) যখন প্রকাশ্যে শিরকের বিরোধিতা ও তাওহীদের প্রচার শুরু করে এবং দেব-মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমাগুলো ভেঙে দেন তখন তাঁর পিতা নিজেই বাদশাহর দরবারে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা পেশ করে তারপর বাদশাহর সাথে তাঁর যে বিতর্কালাপ হয় তাই এখানে উল্লেখিত হয়েছে৷
২৯১. অর্থাৎ যে বিষয়টি নিয়ে এ বিতর্ক চলছিল সেটি ছিল এই যে ইবরাহীম (আ) কাকে নিজের রব বলে মানেন ? আর এ বিতর্কটি সৃষ্টি হবার কারণ ছিল এই যে, বিতর্ককারী ব্যক্তি অর্থাৎ নমরুদে আল্লাহর রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করেছিলেন৷ এই দু'টি বাক্যের মধ্যে বিতর্কের ধরনের প্রতি যে ইংগিত করা হয়েছে তা বুঝবার জন্য নিম্নলিখিত বাস্তব বিষয়গুলো সামনে রাখা প্রয়োজন৷

একঃ প্রাচীনকাল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত মুশরিক সমাজগুলোর এই সম্মিলিত বৈশিষ্ট দেখা গেছে যে,তারা আল্লাহকে সকল খোদার প্রধান খোদা, প্রধান উপাস্য ও পরমেশ্বর হিসেবে মেনে নেয় কিন্তু একমাত্র তাঁকেই আরাধ্য, উপাস্য, মাবুদ ও খোদা হিসেবে মানতে প্রস্তুত হয় না৷

দুইঃ আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে মুশরিকরা চিরকাল দু'ভাগে বিভক্ত করে এসেছে৷ একটি হচ্ছে, অতি প্রাকৃতিক (Super natural) খোদায়ী ক্ষমতা৷ কার্যকারণ পরম্পরার ওপর এর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং মুশরিকরা নিজেদের প্রয়োজন পূর্ণ করার সংকট উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এর দোহাই দেয়৷ এই খোদায়ীর ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর সাথে অতীতের পুন্যবান লোকদের আত্মা, ফেরেশতা (দেবতা), জিন, নক্ষত্র এবং আরো অসংখ্য সত্তাকে শরীক করে৷ তাদের কাছে প্রার্থনা করে৷ পূজা ও উপাসনার অনুষ্ঠানাদি তাদের সামনে সম্পাদন করে৷ তাদের আস্তানায় ভেট ও নজরানা দেয়৷ দ্বিতীয়টি হচ্ছে তামাদ্দুনিক ও রাজনৈতিক বিষয়ের খোদায়ী (অর্থাৎ শাসন কর্তৃত্ব) ক্ষমতা৷ জীবন বিধান নির্ধারণ করার ও নির্দেশের আনুগত্য লাভ করার অধিকার তার আয়ত্বাধীন থাকে৷ পার্থিব বিষয়াবলীর ওপর শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পূর্ণ ক্ষমতা তার থাকে৷ দুনিয়ার সকল মুশরিক সম্প্রদায় অথবা তার সাথে রাজপরিবার, ধর্মীয় পুরোহিত ও সমাজের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কালের মনীষীদের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছে ৷ বেশীর ভাগ রাজপরিবার এই দ্বিতীয় অর্থে খোদায়ীর দাবীদার হয়েছে৷ তাদের এই দাবীকে শক্তিশালী করার জন্য আবার তারা সাধারণভাবে প্রথম অর্থে খোদাদের সন্তান হবার দাবী করেছে৷ এ ব্যাপারে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো তাদের ষড়যন্ত্রে অংশীদার হয়েছে৷

তিনঃ নমরুদের খোদায়ী দাবীও এই দ্বিতীয় ধরনের ছিল৷ সে আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করতো না৷ নিজেও পৃথিবী ও আকাশের স্রষ্টা ও পরিচালক বলে সে দাবী করতো না৷ সে একথা বলতো না যে, বিশ্ব-জগতের সমস্ত কার্যাকারণ পরম্পরার ওপর তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত রয়েছে৷ বরং তার দাবী ছিল, আমি এই ইরাক দেশ এবং এর অধিবাসীদের একচ্ছত্র অধিপতি৷ আমার মুখের কথাই এ দেশের আইন৷ আমার ওপর আর কারো কর্তৃত্ব নেই৷ কারো সামনেই আমাকে জবাবদিহি করতে হবে না৷ ইরাকের যে কোন ব্যক্তি এসব দিক দিয়ে আমাকে রব বলে মেনে নেবে না অথবা আমাকে বাদ দিয়ে আর কাউকে রব বলে মেনে নেবে, সে বিদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতক৷

চারঃ ইবরাহীম আল্লাইহিস সালাম যখন বললেন, আমি একমাত্র রবুল আলামীনকে খোদা, মাবুদ ও রব বলে মানি, তাঁর ছাড়া আর সবার খোদায়ী, প্রভূত্ব ও কর্তৃত্ব অস্বীকার করি, তখন কেবল এতটুকু প্রশ্ন সেখানে দেখা দেয়নি যে, জাতীয় ধর্ম ও ধর্মীয় মাবুদদের ব্যাপারে তাঁর এই নতুন আকীদা ও বিশ্বাস কতটুকু সহনীয়, বরং এই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে যে, জাতীয় রাষ্ট্র ও তার কেন্দ্রীয় ক্ষমতা-কর্তৃত্বের ওপর এই বিশ্বাস যে আঘাত হানছে তাকে উপেক্ষা করা যায় কেমন করে? এ কারণেই হযরত ইবরাহীম (আ) বিদ্রোহের অপরাধে নমরুদের সামনে আনীত হন৷
২৯২. যদিও হযরত ইবরাহীমের (আ) প্রথম বাক্যের একথা সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় আর কেউ রব হতে পারে না তবুও নমরুদ ধর্মিতার পরিচয় দিয়ে নির্লজ্জের মতো তার জবাব দিয়েছে৷ কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যের পর তার জন্য আবার হঠধর্মী হবার আর কোন সুযোগই ছিল না৷ সে নিজেও জানতো, চন্দ্র-সূর্য সেই আল্লাহরই হুকমের অধীনে যাকে ইবরাহীম রব বলে মেনে নিয়েছে৷ এরপর তার কাছে আর কি জবাব থাকতে পারে? কিন্তু এভাবে তার সামনে যে দ্ব্যর্থহীন সত্য আত্মপ্রকাশ করেছিল তাকে মেনে নেয়ার মানেই ছিল নিজের স্বাধীন সার্বভৌম প্রভুত্ব ও শাসন কর্তৃত্ব পরিহার করা৷ আর এই কর্তৃত্ব পরিহার করতে তার নফসের তাগুত মোটেই প্রস্তুত ছিল না৷ কাজেই তার পক্ষে নিরুত্তর ও হতবুদ্ধি হওয়াই স্বাভাবিক ছিল৷ আত্মপূজার অন্ধকার ভেদ করে সত্য প্রিয়তার আলোকে প্রবেশ করা তার পক্ষে সম্ভবপর হলো না৷ যদি এই তাগুতের পরিবর্তে আল্লাহকে সে নিজের সাহায্যকারী ও পৃষ্ঠপোষক হিসেব মেনে নিতো, তাহলে হযরত ইবরাহীমের প্রচার ও নসিহত প্রদানের পর তার জন্য সঠিক পথের দ্বার উন্মক্ত হয়ে যেতো৷ তালমূদের বর্ণনা মতে, তারপর সেই বাদশাহর নির্দেশে হযরত ইবরাহীমকে বন্দী করা হয়৷ দশদিন তিনি কারাগারে অবস্থান করেন৷ অতপর বাদশাহর কাউন্সিল তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে৷ তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করার যে ঘটনা ঘটে তা সূরা আম্বিয়ার ৫ম রুকূ', আনকাবুতের ২য় ও ৩য় রুকূ' এবং আস সাফ্‌ফাতের ৪র্থ রুকূ'তে বর্ণিত হয়েছে৷
২৯৩. এই ব্যক্তিটি কে ছিলেন, এবং লোকায় কোনটি ছিল এ আলোচনা এখানে অপ্রয়োজনীয়৷ এখানে আসল বক্তব্য কেবল এতটুকু যে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে সাহায্যকারী ও অভিভাবক বানিয়েছিলেন আল্লাহ কিতাবে তাকে আলোর রাজ্যে নিয়ে গিয়েছিলেন৷ ব্যক্তি ও স্থান নির্ধারণ করার কোন মাধ্যম আমাদের কাছে নেই এবং এতে কোন লাভও নেই৷ তবে পরবর্তী বর্ণনা থেকে প্রকাশ হয় যে, এখানে যার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে তিনি নিশ্চয়ই কোন নবীই হবেন৷
২৯৪. এ প্রশ্নের অর্থ এ নয় যে, সংশ্লিষ্ট বুযর্গ মৃত্যুর পরের জীবন অস্বীকার করতেন অথবা এ ব্যাপারে তাঁর মনে কোন সন্দেহ ছিল৷ বরং আসলে তিনি সত্যকে চাক্ষুষ দেখতে চাচ্ছিলেন, যেমন নবীদের দেখানো হয়ে থাকে৷
২৯৫. দুনিয়াবাসী যাকে মৃত বলে জেনেছিল, এমন এক ব্যক্তির জীবিত হয়ে ফিরে আসার তার নিজের সমকালীন জনসমাজে তাকে একটি জীবন্ত নিদর্শনে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট ছিল৷
২৯৬. অর্থাৎ সেই নিশ্চিন্ততা, যা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে লাভ করার যায়৷
২৯৭. এই ঘটনাটি ও পূর্বোক্ত ঘটনাটির অনেকে অদ্ভুত অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন৷ কিন্তু আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামদের ব্যাপারে আল্লাহর যে নীতি রয়েছে,তা ভালোভাবে হৃদয়ংগম করতে সক্ষম হলে এ ব্যাপারে কোন প্রকার গোঁজামিল দেয়ার প্রয়োজনই দেখা দিতে পারে না৷ সাধারণ ঈমানদারদের এ জীবনে যে দায়িত্ব পালন করতে হবে সে জন্য নিছক ঈমান বিল গাইবই (না দেখে মেনে নেয়া) যথেষ্ট৷ কিন্তু নবীদের ওপর আল্লাহ যে, দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন এবং যে নির্জলা সত্যগুলোর প্রতি দুনিয়াবাসীকে দাওয়াত দেয়ার জন্য তাঁর আদিষ্ট হয়েছিলেন সেগুলোকে স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করা তাঁদের জন্য অপরিহার্য ছিল৷ মানুষের সামনে সর্বশক্তি দিয়ে তাঁদের একথা বলার প্রয়োজন ছিল যে, তোমরা তো নিছক আন্দাজ অনুমান করে বলছো কিন্তু আমরা নিজেদের চর্মচক্ষে দেখা বিষয় তোমাদের বলছি৷ তোমাদের কাছে আন্দাজ, অনুমান, ধারণা,কল্পনা, কিন্তু আমাদের কাছে রয়েছে, দৃঢ় বিশ্বাসের জ্ঞানভাণ্ডার৷ তোমরা অন্ধ আর আমরা চক্ষুষ্মান৷ তাই নবীদের সামনে ফেরেশতারা আসতেন প্রকাশ্যে৷ তাঁদরকে পৃথিবী ও আকাশের ব্যবস্থাপনা দেখানো হয়েছে৷ জান্নাত ও জাহান্নাম তাদেরকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করানো হয়েছে৷ মৃত্যর পরের জীবনের প্রদর্শণী করে তাঁদেরকে দেখানো হয়েছে৷ নবীগণ নবুওয়াতের গুরুদায়িত্ব লাভ করার অনেক আগেই ঈমান বিল গাইবের পর্যায় অতিক্রম করে থাকেন৷ নবী হবার পর তাঁদেরকে দান করা হয় ঈমান বিশ্ শাহাদাতের (চাক্ষুষ জ্ঞানলব্ধ বিশ্বাস) নিয়ামত৷ এ নিয়ামত একমাত্র নবীদের জন্য নির্দিষ্ট৷ (আরো বেশী জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা হুদের ১৭, ১৮, ১৯ ও ৩৪ টীকা)৷