(২:২৩২) তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের তালাক দেয়ার পর যখন তারা ইদ্দত পূর্ণ করে নেয় তখন তাদের নিজেদের প্রস্তাবিত স্বামীদের সাথে বিয়ের ব্যাপারে তোমরা বাধা দিয়ো না , যখন তারা প্রচলিত পদ্ধতি পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সম্মত হয় ৷ ২৬৫ এ ধরনের পদক্ষেপ কখনো গ্রহণ না করার জন্য তোমাদের উপদেশ দেয়া হচ্ছে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনে থাকো ৷ এ থেকে বিরত থাকাই তোমাদের জন্য সবচেয়ে পরিমার্জিত ও সর্বাধিক পবিত্র পদ্ধতি ৷ আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না ৷
(২:২৩৩) যে পিতা তার সন্তানের দুধ পানের সময়-কাল পূর্ণ করতে চায়, সে ক্ষেত্রে মায়েরা পুরো দু’বছর নিজেদের সন্তানদের দুধ পান করাবে ৷ ২৫৭ এ অবস্থায় সন্তানদের পিতাকে প্রচলিত পদ্ধতিতে মায়েদের খোরাক পোশাক দিতে হবে ৷ কিন্তু কারোর ওপর তার সামর্থের বেশী বোঝা চাপিয়ে দেয়া উচিৎ নয় ৷ কোন মা’কে এ জন্য কষ্ট দেয়া যাবে না যে সন্তানটি তার ৷ আবার কোন বাপকেও এ জন্য কষ্ট দেয়া যাবে না যে, এটি তারই সন্তান ৷ দুধ দানকারিণীর এ অধিকার যেমন সন্তানের পিতার ওপর আছে তেমনি আছে তার ওয়ারিশের ওপরও ৷ ২৫৮ কিন্তু যদি উভয় পক্ষ পারস্পারিক সম্মতি ও পরামর্শক্রমে দুধ ছাড়াতে চায়,তাহলে এমনটি করায় কোন ক্ষতি নেই ৷ আর যদি তোমার সন্তানদের অন্য কোন মহিলার দুধ পান করাবার কথা তুমি চিন্তা করে থাকো, তাহলে তাতেও কোন ক্ষতি নেই, তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে, এ জন্য যা কিছু বিনিময় নির্ধারণ করবে তা প্রচলিত পদ্ধতিতে আদায় করবে ৷ আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো , তোমরা যা কিছু করো না কেন সবই আল্লাহর নজরে আছে ৷
(২:২৩৪) তোমাদের মধ্য থেকে যারা মারা যায়, তাদের পরে যদি তাদের স্ত্রীরা জীবিত থাকে, তাহলে তাদের চার মাস দশ দিন নিজেদেরকে (বিবাহ থেকে) বিরত রাখতে হবে ৷ ২৫৯ তারপর তাদের ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেলে তারা ইচ্ছামতো নিজেদের ব্যাপারে প্রচলিত পদ্ধতিতে যা চায় করতে পারে, তোমাদের ওপর এর কোন দায়িত্ব নেই৷ আল্লাহ তোমাদের সবার কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত ৷
(২:২৩৫) ইদ্দতকালে তোমরা এই বিধবাদেরকে বিয়ে করার ইচ্ছা ইশারা ইংগিতে প্রকাশ করলে অথবা মনের গোপন কোণে লুকিয়ে রাখলে কোন ক্ষতি নেই ৷ আল্লাহ জানেন, তাদের চিন্তা তোমাদের মনে জাগবেই ৷ কিন্তু দেখো, তাদের সাথে কোন গোপন চুক্তি করো না ৷ যদি কোন কথা বলতে হয় , প্রচলিত ও পরিচিত পদ্ধতিতে বলো৷ তবে বিবাহ বন্ধনের সিদ্ধান্ত ততক্ষণ করবে না যতক্ষণ না ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যায় ৷ খুব ভালোভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ তোমাদের মনের অবস্থাও জানেন ৷ কাজেই তাঁকে ভয় করো৷ এবং একথাও জেনে রাখো, আল্লাহ ধৈর্যশীল এবং ছোট খাটো ত্রুটিগুলো এমনিতেই ক্ষমা করে দেন৷
২৬৫. অর্থাৎ কোন স্ত্রীলোককে তার স্বামী তালাক দিয়ে দেয়ার পর ইদ্দতকালের মধ্যে যদি তাকে ফিরিয়ে না নেয় এবং ইদ্দতাকাল অতিক্রান্ত হবার পর তারা দু'জন পারস্পরিক সম্মতিক্রমে আবার বিয়ে করতে চায়, তাহলে এ ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকটির আত্মীয়-স্বজনদের তাদের এই পদক্ষেপে বাধা দেয়া উচিত নয়৷ এছাড়া এ আয়াতটির এ অর্থও হতে পারে যে,কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী ইদ্দতকাল অতিক্রম করার পর তার থেকে মুক্ত হয়ে গিয়ে নিজের পছন্দমতো অন্য কাউকে বিয়ে করতে চায়৷ এ ক্ষেত্র তার পূর্ববর্তী স্বামী কোন হীন মানসিকাতার বশবর্তী হয়ে যেন তার এ বিয়েতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়৷ যে মহিলাকে সে ত্যাগ করেছে তাকে যাতে আর কেউ গ্রহণ করতে এগিয়ে না আসে এজন্য যেন সে প্রচেষ্ট চালাতে না থাকে৷
২৫৭. এ নির্দেশটি এমন এক অবস্থার জন্য যখন স্বামী-স্ত্রী পরস্পর থেকে তালাক বা 'খূলা' তালাকের মাধ্যমে অথবা আদালত কর্তৃক বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং স্ত্রীর কোলে রয়েছে দুগ্ধপোষ্য শিশু৷
২৫৮. অর্থাৎ বাপ যদি মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার অভিভাবককে এ অধিকার আদায় করতে হবে৷
২৫৯. স্বামী মারা যাবার পর স্ত্রীর ইদ্দত পালনের যে সময় কাল এখানে বর্ণিত হয়েছে এটি এমন বিধবাদেরও পালন করতে হবে যাদের সাথে স্বামীদের বিয়ের পর একান্তে বসবাস হয়নি৷ তবে গর্ভবর্তী বিধবাদের এই ইদ্দত পালন করতে হবে না৷ গর্ভস্থ সন্তান প্রসব হবার সাথে সাথেই তাদের ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যায়৷ স্বামীর মৃত্যুর পর পরই অথবা তার কয়েক মাস পরে সন্তান প্রসব হোক না কেন সমান কথা৷ '' নিজেদেরকে বিরত রাখতে হবে''- এর অর্থ কেবল এতটুকুই নয় যে, এই সময় বিয়ে করতে পারবে না বরং এই সংগে সংগে নিজেকে কোন প্রকার সাজ-সজ্জা ও অলংকারেও ভূষিত করতে পারবে না৷ হাদীসে সুস্পষ্টভাবে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, স্বামী মৃত্যুকালীন ইদ্দত পালনে সময় নারীরা রঙীন কাপড় ও অলংকার পরতে পারবে না, মেহেদী,সুর্মা, কুশ্‌বু ও খেজাব লাগাতে পারবে না, এমনকি কেশ বিন্যাস করতেও পারবে না৷ তবে এই সময় নারীরা ঘর থেক বাইরে যেতে পারবে কি না এ ব্যাপার মতবিরোধ আছে৷ হযরত উমর (রা), হযরত উসমান (রা) , হযরত ইবনে উমর (রা), হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত (রা), হযরত ইবনে মাসউদ (রা), হযরত উম্মে সালমা (রা), সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যেব, ইবরাহীম নাখঈ, মুহাম্মাদ ইবনে শীরীন এবং চার ইমামের মতে স্বামী যে ঘরে মারা গেছে ইদ্দত পালনকালে বিধবা স্ত্রীকে সেই ঘরেই থাকতে হবে৷ দিনের বেলা কোন প্রয়োজনে সে বাইরে যেতে পারে৷ কিন্তু ঐ ঘরের মধ্যেই তার অবস্থান হতে হবে৷ বিপরীত পক্ষে হযরত আয়েশা (রা), আতা, তাউস, হাসান বসরী, উমর ইবনে আবদুল আযীয এবং সকল আহলুয যাহেরের মতে বিধবা স্ত্রী তার উদ্দতকার যেখানে ইচ্ছা পালন করতে পারে এবং এ সময় সে সফরও করতে পারে৷