(২:১৩০) এখন কে ইবরাহীমের পদ্ধতিকে ঘৃণা করবে ?হ্যাঁ, যে নিজেকে মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতায় আচ্ছন্ন করেছে সে ছাড়া আর কে এ কাজ করতে পারে ? ইবরাহীমকে তো আমি দুনিয়ায় নিজের জন্য নির্বাচিত করেছিলাম আর আখেরাতে সে সৎকর্মশীলদের মধ্যে গণ্য হবে ৷
(২:১৩১) তার অবস্থা এই যে, যখন তার রব তাকে বললো, “মুসলিম হয়ে যাও ৷” ১৩০ তখনই সে বলে উঠলো, “আমি বিশ্ব-জাহানের প্রভুর ‘মুসলিম’ হয়ে গেলাম ৷ ”
(২:১৩২) ঐ একই পথে চলার জন্য সে তার সন্তানদের উপদেশ দিয়েছিল এবং এরি উপদেশ দিয়েছিল ইয়াকুবও তার সন্তানদেরকে ৷১৩১ সে বলেছিল, “আমার সন্তানেরা! আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দীনটিই পছন্দ করেছেন ৷১৩২ কাজেই আমৃত্যু তোমরা মুসলিম থেকো ৷”
(২:১৩৩) তোমরা কি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলে,যখন ইয়াকুব এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছিল?মৃত্যুকালে সে তার সন্তানদের জিজ্ঞেস করলোঃ“আমার পর তোমরা কার বন্দেগী করবে ? ” তারা সবাই জবাব দিলঃ“ আমরা সেই এক আল্লাহর বন্দেগী করবো , যাকে আপনি এবং আপনার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাক ইলাহ হিসেবে মেনে এসেছেন আর আমরা তাঁরই অনুগত- মুসলিম ৷ ” ১৩৩
(২:১৩৪) এরা ছিল কিছু লোক ৷ এরা তো অতীত হয়ে গেছে ৷ তারা যা কিছু উপার্জন করেছে, তা তাদের নিজেদের জন্যই আর তোমরা যা উপার্জন করবে, তা তোমাদের জন্য ৷ তারা কি করতো সে কথা তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না ৷১৩৪
(২:১৩৫) ইহুদিরা বলে, “ইহুদি হয়ে যাও, তাহলে সঠিক পথ পেয়ে যাবে ৷” খৃস্টানরা বলে, “খৃস্টান হয়ে যাও , তা হলে হিদায়াত লাভ করতে পারবে ৷ ” ওদেরকে বলে দাও , “না, তা নয়; বরং এ সবকিছু ছেড়ে একমাত্র ইবরাহীমের পদ্ধতি অবলম্বন করো৷ আর ইবরাহীম মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিল না ৷ ” ১৩৫
(২:১৩৬) হে মুসলমানরা!তোমরা বলো, “আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, যে হিদায়াত আমাদের জন্য নাযিল হয়েছে তার প্রতি এবং যা ইবরাহীম, ইসমাঈল , ইসহাক , ইয়াকুব ও ইয়াকুবের সন্তানদের তাদের রবের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল তার প্রতি ৷ তাদের করোর মধ্যে আমরা কোন পার্থক্য করি না৷ ১৩৬ আমরা সবাই আল্লাহর অনুগত মুসলিম ৷”
(২:১৩৭) তোমরা যেমনি ঈমান এনেছো তারাও যদি ঠিক তেমনিভাবে ঈমান আনে, তাহলে তারা হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলতে হবে ৷ আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে সোজা কথায় বলা যায় , তারা হঠধর্মিতার পথ অবলম্বন করেছে ৷ কাজেই নিশ্চিন্ত হয়ে যাও, তাদের মোকাবিলায় তোমাদের সহায়তার জন্য আল্লাহ-ই যথেষ্ট৷ তিনি সবকিছু শুনেন ও জানেন ৷
(২:১৩৮) বলোঃ “আল্লাহর রঙ ধারণ করো ! ১৩৮ আর কার রঙ তার চেয়ে ভলো? আমরা তো তাঁরই ইবাদাতকারী ৷”
(২:১৩৯) হে নবী! এদেরকে বলে দাওঃ“তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমাদের সাথে ঝগড়া করছো? অথচ তিনিই আমাদের রব এবং তোমাদেরও ৷১৩৮ আমাদের কাজ আমাদের জন্য , তোমাদের কাজ তোমাদের জন্য ৷ আর আমরা নিজেদের ইবাদাতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করেছি ৷১৩৯
(২:১৪০) অথবা তোমরা কি একথা বলতে চাও যে, ইবরাহীম , ইসমাঈর, ইসহাক, ইয়াকুব ও ইয়াকুব-সন্তানরা সবাই ইহুদি বা খৃস্টান ছিল?” বলো, “তোমরা বেশী জানো, না আল্লাহ বেশী জানেন? ১৪০ তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে , যার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সাক্ষ রয়েছে এবং সে তা গোপন করে চলে? তোমাদের কর্মকান্ডের ব্যাপারে আল্লাহ গাফেল নন৷১৪১ তারা ছিল কিছু লোক ৷ তারা আজ আর নেই ৷
(২:১৪১) তারা যা কিছু উপার্জন করেছিল তা ছিল তাদের নিজেদের জন্য ৷ আর তোমরা যা উপার্জন করবে তা তোমাদের জন্য তাদের কাজের ব্যাপারে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না ৷ ”
১৩০. মুসলিম কাকে বলে? যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুগত হয়, আল্লাহকে নিজের মালিক , প্রভু ও মাবুদ হিসেবে মেনে নেয়, নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর হাতে সোপর্দ করে দেয় এবং দুনিয়ায় আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করে সে-ই মুসলিম ৷ এ আকীদা-বিশ্বাস ও কর্মপদ্ধতির নাম 'ইসলাম' মানব জাতির সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন জাতির মধ্যে যেসব নবী এসেছেন এটিই ছিল তাঁদের সবার দীন ও জীবন বিধান ৷
১৩১. বনী ইসরাঈল সরাসরি হযরত ইয়াকূব আলাইহিস সালামের বংশধর হবার কারণেই সরাসরি তাঁর কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে ৷
১৩২. 'দীন' অর্থাৎ জীবন পদ্ধতি ও জীবন বিধান ৷মানুষ দুনিয়ায় যে আইন ও নীতিমালার ভিত্তিতে তার সমগ্র চিন্তা, দর্শন ও কর্মনীতি গড়ে তোলে তাকেই বলা হয় 'দীন' ৷
১৩৩. বাইবেলে হযরত ইয়াকূবের (আ)মৃত্যুকালীন অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেখানে এই উপদেশের কথা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি ৷ তবে তালমূদে যে বিস্তারিত উপদেশ লিপিবদ্ধ হয়েছে তার বিষয়বস্তু কুরআনের এ বর্ণনার সাথে অনেকটা সামঞ্জস্যশীল ৷ সেখানে আমরা হযরত ইয়াকূবের (আ)একথাগুলো পাই: "সদাপ্রভু আল্লাহর বন্দেগী করতে থাকো ৷ তিনি তোমাদেরকে ঠিক তেমনিভাবে বিপদ থেকে বাঁচাবেন যেমন বাঁচিয়েছেন তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে৷…………………তোমাদের সন্তানদের আল্লাহকে ভালোবাসতে এবং তাঁর হুকুম পালন করতে শেখাও ৷ এতে তাদের জীবনের অবকাশ দীর্ঘ হবে৷ কারণ আল্লাহ তাদেরকে হেফাযত করেন যারা সত্যনিষ্ঠ হয়ে কাজ করে এবং তাঁর পথে ঠিকমতো চলে ৷" জবাবে তাঁর ছেলেরা বলেন: "আপনার উপদেশ মতো আমরা কাজ করবো ৷ আল্লাহ আমাদের সাথে থাকুন ৷" একথা শুনে হযরত ইয়াকূব(আ)বলেন: "যদি তোমরা আল্লাহর পথ থেকে ডাইনে বাঁয়ে না ঘুরে যাও , তাহলে আল্লাহ অবশ্যি তোমাদের সাথে থাকবেন৷"
১৩৪. অর্থাৎ যদিও তোমরা তাদেরই সন্তান তবুও প্রকৃতপক্ষে তাদের সাথে তোমাদের কোন যোগাযোগ নেই৷ তোমরা তাদের পথ থেকেই যখন সরে গিয়েছো তখন তাদের নাম নেয়ার তোমাদের কি অধিকার আছে ? আল্লাহর ওখানে একথা জিজ্ঞেস করা হবে না যে, তোমাদের বাপ-দাদারা কি করতো ?বরং জিজ্ঞেস করা হবে তোমরা কি করেছো ? আর "তারা যা কিছু উপার্জন করেছে, তা তাদের নিজেদের জন্যই আর তোমরা যা উপার্জন করবে তা তোমাদের জন্য"--- এ বর্ণনাভংগীটি কুরআনের একান্ত নিজস্ব ৷ আমরা যে জিনিসটিকে কাজ বা আমল বলি কুরআন নিজের ভাষায় তাকে বলে উপার্জন বা রোজগার ৷ আমাদের প্রত্যেকটি আমলের একটি ভালো বা মন্দ ফলাফল আছে ৷ আল্লাহর সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির আকারে এর প্রকাশ ঘটবে ৷ এ ফলাফলই হচ্ছে আমাদের উপার্জন ৷ যেহেতু কুরআনের দৃষ্টিতে ঐ ফলাফলই মূল গুরুত্বের অধিকারী তাই সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের কাজকে 'আমল' ও 'কাজ' শব্দ দ্বারা চিহ্নিত না করে তাকে 'উপার্জন' শব্দ দিয়ে সুস্পষ্ট করা হয়েছে ৷
১৩৫. এ জবাবটির রসাস্বাদন করতে হলে দু'টি বিষয় সামনে রাখতে হবে:

এক:ইহুদিবাদ ও খৃস্টবাদ উভয়ই পরবর্তীকালের ফসল ৷ ইহুদিবাদের সৃষ্টি খৃস্টপূর্ব তৃতীয়-চতুর্থ শতকে ৷ তখনই 'ইহুদিবাদ'তার এ নাম , ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য ও রীতি-পদ্ধতি সহকারে আত্মপ্রকাশ করে ৷ আর যেসব বিশেষ আকীদা-বিশ্বাস ও ধর্মীয় চিন্তা-ভাবনার সমষ্টি খৃস্টবাদ নামে পরিচিতি লাভ করেছে তার অভ্যুদয় ঘটেছে হযরত ঈসা মসীহ আলাইহিস সালামেরও বেশ কিছুকাল পরে৷ এখানে স্বতস্ফূর্তভাবে একটি প্রশ্ন জেগে ওঠে ৷ যদি ইহুদিবাদ ও খৃস্টবাদ গ্রহণ করাই হিদায়াত লাভের ভিত্তি হয়ে থাকে , তাহলে এ ধর্মগুলোর উদ্ভবের শত শত বছর আগে জন্মগ্রহণকারী হযরত ইবরাহীম(আ), অন্যান্য নবীগণ ও সৎব্যক্তিবর্গ,যাদেরকে ইহুদি ও খৃস্টানরা নিজেরাই হিদায়াতপ্রাপ্ত বলে স্বীকার করে , তারা কোথায় থেকে হিদায়াত পেতেন?নিসন্দেহে বলা যায় , তাদের হিদায়াতের উৎস 'ইহুদিবাদ' ও 'খৃস্টবাদ' ছিল না ৷ কাজেই একথা সুস্পষ্ট , যেসব ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ইহুদি, খৃস্টান ইত্যাদি সম্প্রদায়গুলোর উদ্ভব হয়েছে মানুষের হিদায়াত লাভ এদের ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল নয় ৷ বরং যে বিশ্বব্যাপী চিরন্তন সহজ-সত্য পথ গ্রহণ করে মানুষ যুগে যুগে হিদায়াত লাভ করে এসেছে তারই ওপর এটি নির্ভরশীল ৷

দুই: ইহুদি ও খৃস্টানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থগুলোই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এক আল্লাহ ছাড়া আর করোর ইবাদত-বন্দেগী, উপাসন –আরাধনা , প্রশংসা-কীর্তন ও আনউগত্য না করার সাক্ষ প্রদান করে ৷ আল্লাহর গুণ-বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আর কাউকে শরীক না করাই ছিল তাঁর মিশন ৷ কাজেই নিসন্দেহে বলা যায়, হযরত ইবরাহীম (আ) যে সত্য-সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ইহুদিবাদ ও খৃস্টবাদ তা থেকে সরে গিয়েছিল ৷ কারণ এদের উভয়ের মধ্যেই শিরকের মিশ্রণ ঘটেছিল ৷
১৩৬. নবীদের মধ্যে পার্থক্য না করার অর্থ হচ্ছে, কেউ সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং কেউ সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না অথবা কাউকে মানি এবং কাউকে না ---আমরা তাদের মধ্যে এভাবে পার্থক্য করি না ৷ আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সকল নবীই একই চিরন্তন সত্য ও একই সরল-সোজা পথের দিকে আহবান জানিয়েছেন ৷কাজেই যথার্থ সত্যপ্রিয় ব্যক্তির পক্ষে সকল নবীকে সত্যপন্থী ও সত্যের প্রতিষ্ঠিত বলে মেনে নেয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই ৷ যে ব্যক্তি এক নবীকে মানে এবং অন্য নবীকে অস্বীকার করে , সে আসলে যে নবীকে মানে তারও অনুগামী নয় ৷ কারণ হযরত মূসা (আ), হযরত ঈসা (আ) ও অন্যান্য নবীগণ যে বিশ্বব্যাপী চিরন্তন সহজ-সত্য পথ দেখিয়েছিলেন সে আসলে তার সন্ধান পায়নি বরং সে নিছক বাপ-দাদার অনুসরণ করে একজন নবীকে মানছে ৷ তার আসল ধর্ম হচ্ছে ,র্ঠিণবাদ, বংশবাদ ও বাপ-দাদার অন্ধ অনুসরণ !কোন নবীর অনুসরণ তার ধর্ম নয় ৷
১৩৮. এ আয়াতটির দু'টি অনুবাদ হতে পারে ৷ এক:আমরা আল্লাহর রং ধারণ করেছি ৷ দুই :আল্লাহর রং ধারণ করো ৷ খৃস্ট ধর্মের আত্মপ্রকাশের পূর্বে ইহুদিদের মধ্যে একটি বিশেষ রীতির প্রচলন ছিল ৷ কেউ তাদের ধর্ম গ্রহণ করলে তাকে গোসল করানো হতো ৷ আর তাদের ওখানে গোসলের অর্থ ছিল, তার সমস্ত গোনাহ যেন ধুয়ে গেলো এবং তার জীবন নতুন রং ধারণ করলো ৷ পরবর্তীকালে খৃস্টানদের মধ্যেও এ রীতির প্রচলন হয় ৷ তাদের ওখানে এ পারিভাষিক নাম হচ্ছে ইসতিবাগ বা রঙীন করা(ব্যাপটিজম)৷ তাদের ধর্মে যারা প্রবেশ করে কেবল তাদেরকেই ব্যাপটাইজড বা খৃস্ট ধর্মে রঞ্জিত করা হয় না বরং খৃস্টান শিশুদেরকেও ব্যাপটাইজড করা হয় ৷ এ ব্যাপারেই কুরআন বলছে, এ লোকাচারমূলক 'রঞ্জিত' হবার যৌক্তিকতা কোথায় ? বরং আল্লাহর রঙে রঞ্জিত হও ৷ যা কোন পানির দ্বারা হওয়া যায় না ৷ বরং তাঁর বন্দেগী পথ অবলম্বন করে এ রঙে রঞ্জিত হওয়া যায় ৷
১৩৮. অর্থাৎ আমরাও তো এই একই কথাই বলি, আল্লাহ আমাদের সবার রব এবং তাঁরই আনুগত্য করতে হবে ৷ এটা কি এমন বিষয় , যা নিয়ে তোমরা আমাদের সাথে ঝগড়া করতে পারো? ঝগড়া যদি করতে হয় তাহলে তা আমরা করতে পারি , তোমরা নও ৷ কারণ তোমরাই আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করছো এবং তার বন্দেগী করছো ৷ আমরা এ কাজ করছি না ৷ ----আরবী ------ বাক্যটির আর একটি অনুবাদ হতে পারে : "আমাদের সাথে তোমাদের ঝগড়াটি কি আল্লাহর পথে ? এর অর্থ এই হবে , যদি তোমরা সত্যিই লালসার বশবর্তী না হয়ে বরং আল্লাহর জন্য ঝগড়া করে থাকো, তাহলে অতি সহজেই এর মীমাংসা করা যেতে পারে ৷
১৩৯. তোমাদের কাজের জন্য তোমরা দায়ী আর আমাদের কাজের জন্য আমরা দায়ী৷ তোমরা যদি তোমাদের বন্দেগীকে বিভক্ত করে থাকো এবং অন্য কাউকে আল্লাহর সাথে শরীক করে তার পূজা-উপাসনা ও আনুগত্য করো, তাহলে তোমাদের তা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে ৷ কিন্তু এর পরিণাম তোমাদের ভোগ করতে হবে ৷ আমরা বলপূর্বক তোমাদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখতে চাই না ৷ কিন্তু আমরা নিজেদের বন্দেগী , আনুগত্য ও উপাসনা –আরাধনা সবকিছুই একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট করে দিয়েছি ৷ যদি তোমরা একথা স্বীকার করে নাও যে, আমাদেরও এ কাজ করার ক্ষমতা ও অধিকার আছে তাহলে তো ঝগড়াই মিটে যায় ৷
১৪০. যেসব মুর্খ ইহুদি ও খৃস্টান জনতা যথার্থই মনে করতো , এ বড় বড় মহান নবীদের সকলেই ইহুদি বা খৃস্টান ছিলেন, তাদেরকে সম্বোধন করে এখানে একথা বলা হয়েছে ৷
১৪১. এখানে ইহুদি ও খৃস্টান আলেমদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে ৷ তারা নিজেরাও এ সত্যটি জানতো যে, ইহুদিবাদ ও খৃস্টবাদ সে সময় যে বৈশিষ্ট ও চেহারাসহ বিরাজ করছিল তা অনেক পরবর্তীকালের সৃষ্টি ৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা সত্যকে একমাত্র তাদের নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করছিল ৷ তারা জনগণকে ভুল ধারণা দিয়ে আসছিল যে, নবীদের অতিক্রান্ত হয়ে যাবার দীর্ঘকাল পর তাদের ফকীহ,ন্যায়শাস্ত্রবিদ ও সুফীরা যে সমস্ত আকীদা-বিশ্বাস, পদ্ধতি , রীতি-নীতি ও ইজতিহাদী নিয়ম-কানুন রচনা করেছে,সেগুলোর আনুগত্যের মধ্যেই মানুষের কল্যাণ ও মুক্তি নিহিত রয়েছে ৷ সংশ্লিষ্ট আলেমদেরকে জিজ্ঞেস করা হতো, তোমাদের একথাই যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে হযরত ইবরাহীম, ইসহাক , ইয়াকুব ইত্যাদি নবীগণ তোমাদের এই সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে কোন্‌ সম্প্রদায়ের অন্তরভুক্ত ছিলেন? তারা এ জবাব এড়িয়ে যেতো ৷কারণ ঐ নবীগণ তাদের সম্প্রদায়ের অন্তরভুক্ত ছিলেন, নিজেদের জ্ঞান অনুযায়ী তারা একথা দাবী করতে পারতো না ৷ কিন্তু নবীগণ ইহুদিও ছিলেন না এবং খৃস্টানও ছিলেন না,একথা যদি তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিতো তাহলে তো তাদের সব যুক্তিই শেষ হয়ে যেতো৷