(১৮:২৩) আর দেখো, কোনো জিনিসের ব্যাপারে কখনো একথা বলো না, আমি কাল এ কাজটি করবো৷
(১৮:২৪) (তোমরা কিছুই করতে পারো না) তবে যদি আল্লাহ চান৷ যদি ভুলে এমন কথা মুখ থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে সাথে সাথেই নিজের রবকে স্মরণ করো এবং বলো, “আশা করা যায়, আমার রব এ ব্যাপারে সত্যের নিকটতর কথার দিকে আমাকে পথ দেখিয়ে দেবেন৷”২৪
(১৮:২৫) আর তারা তাদের গুহার মধ্যে তিনশো বছর থাকে এবং (কিছু লোক মেয়াদ গণনা করতে গিয়ে) আরো নয় বছর বেড়ে গেছে৷২৫
(১৮:২৬) তুমি বলো, আল্লাহ তাদের অবস্থানের মেয়াদ সম্পর্কে বেশী জানেন৷ আকাশ ও পৃথিবীর যাবতীয় প্রচ্ছন্ন অবস্থা তিনিই জানেন, কেমন চমৎকার তিনি দ্রষ্টা ও শ্রোতা ! পৃথিবী ও আকাশের সকল সৃষ্টির তত্ত্বাবধানকারী তিনি ছাড়া আর কেউ নেই এবং নিজের শাসন কর্তৃত্ব তিনি কাউকে শরীক করেন না৷
(১৮:২৭) হে নবী! ২৬ তোমার রবের কিতাবের মধ্য থেকে যাকিছু তোমার ওপর অহী করা হয়েছে তা (হুবহু) শুনিয়ে দাও৷ তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করার অধিকার কারো নেই, (আর যদি তুমি কারো স্বার্থে তার মধ্যে পরিবর্তন করো তাহলে) তাঁর হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে পালাবার জন্য কোনো আশ্রয়স্থল পাবে না৷২৭
(১৮:২৮) আর নিজের অন্তরকে তাদের সংগ লাভে নিশ্চিন্ত করো যারা নিজেদের রবের সন্তুষ্টির সন্ধানে সকাল-ঝাঁঝে তাঁকে ডাকে এবং কখনো তাদের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরাবে না৷ তুমি কি পার্থিব সৌন্দর্য পছন্দ করো ? ২৮ এমন কোনো লোকের আনুগত্য করো না ২৯ যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির কামনা বাসনার অনুসরণ করেছে এবং যার কর্মপদ্ধতি কখনো উগ্র, কখনো উদাসীন৷৩০
(১৮:২৯) পরিষ্কার বলে দাও, এ হচ্ছে সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে, এখন যে চায় মেনে নিক এবং যে চায় অস্বীকার করুক৷ ৩১ আমি (অস্বীকারকারী) জালেমদের জন্য একটি আগুন তৈরি করে রেখেছি যার শিখাগুলো তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলেছে৷ ৩২ সেখানে তারা পানি চাইলে এমন পানি দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হবে, যা হবে তেলের তলানির মতো৷ ৩৩ এবং যা তাদের চেহারা দগ্ধ করে দেবে৷ কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং কি জঘন্য আবাস !
(১৮:৩০) তবে যারা মেনে নেবে এবং সৎকাজ করবে, সেসব সৎকর্মশীলদের প্রতিদান আমি কখনো নষ্ট করি না৷
(১৮:৩১) তাদের জন্য রয়েছে চির বসন্তের জান্নাত, যার পাদদেশে প্রবাহিত হতে থাকবে নদী, সেখানে তাদেরকে সোনার কাঁকনে সজ্জিত করা হবে, ৩৪ সূক্ষ্ম ও পুরু রেশম ও কিংখাবের সবুজ বস্ত্র পরিধান করবে এবং উপবেশন করবে উঁচু আসনে বালিশে হেলান দিয়ে, ৩৫ চমৎকার পুরস্কার এবং সর্বোত্তম আবাস !
২৪. এটি একটি প্রাসংগিক বাক্য ৷ পেছনের আয়াতগুলোর বক্তব্যের সাথে সংযোগ রেখে ধারাবাহিক বক্তব্যের মাঝখানে একথাটি বলা হয়েছে ৷ পেচনের আয়াতগুলোতে বলা হয়েছিল: আসহাবে কাহফের সঠিক সংখ্যা একমাত্র আল্লাহই জানেন এবং ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো একটি অপ্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয় ৷ কাজেই অনর্থক একটি অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হয়ো না এবং এ ব্যাপারে কারো সাথে বিতর্ক ও করো না ৷ এ প্রসংগে সমানের দিকে কথা বলার আগে প্রসাংগিক বাক্য হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম ও মুমিনদেরকে আরো একটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে ৷ সেটি হচ্ছে এই যে,তুমি কখনো দাবী করে একথা বলো না যে, আমি আগামীকাল অমুক কাজটি করবো ৷ তুমি ঐ কাজটি করতে পারবে কিনা সে ব্যাপারে তুমি কীইবা জানো ৷ তোমার অদৃশ্যের জ্ঞান নেই এবং যা ইচ্ছা তা করতে পারবে নিজের কাজের ব্যাপারে এমন স্বাধীন ক্ষমতাও তোমার নেই ৷ তাই কখনো বেখেয়ালে মুখ থেকে এমন কথা বের হয়ে যায় তাহলে সংগে সংগেই সাবধান হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করো এবং ইসশাআল্লাহ বলে দাও ৷ তাছাড়া তুমি যে কাজটি করতে বলছো সেটাই অপেক্ষাকৃত কল্যাণকর না অন্য কাজ তার চেয়ে ভাল, একথাও তুমি জানো না ৷ কাজেই আল্লাহর ওপর ভরসা করে এভাবে বলো: আশা করা যায় আমার রব এ ব্যাপারে সঠিক কথা অথবা সঠিক কর্মপদ্ধতির দিকে আমাকে চালিত করবেন ৷
২৫. আমার মতে এ বাক্যটির সংযোগ রয়েছে পূর্ববর্তী বাক্যের সাথে ৷ অর্থাৎ বাক্যের ধারাবাহিকতা এভাবে সংরক্ষিত হয়েছে যে, " কিছু লোক বলবে তারা তিনজন ছিল এবং চুতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর .......................... আর কিছু লোক বলে, তারা নিজেদের গুহায় তিনশো বছর ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কিছু লোক এ মেয়াদ ঘণনা করতে গিয়ে আরো নয় বছর বেড়ে গেছে ৷ " এ বাক্যে তিনশো ও নয় বছরের যে সংখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে আমার মতে তা আসলে লোকদের উক্তি যা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে, এটা আল্লাহর উক্তি নয় ৷ এর প্রমাণ হচ্ছে, পরবর্তী বাক্যে আল্লাহ নিজেই বলছেন: তুমি বলো, তারা কতদিন ঘুমিয়েছিল তা আল্লাহই ভাল জানেন ৷ যদি ৩০৯ এর সংখ্যা আল্লাহ নিজেই বলে থাকতেন তাহেল তারপর একথা বলার কোন অর্থ ছিল না ৷ এ প্রমাণের ভিত্তিতেই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) ও এ সদর্থ করেছেনে যে এটি আল্লাহর উক্তি নয় বরং লোকদের উক্তির উদ্ধৃতি মাত্র ৷
২৬. আসহাবে কাহফের কাহিনী শেষ হবার পর এবার এখান থেকে দ্বিতীয় বিষয়বস্তুর আলোচনা শুরু হচ্ছে ৷ এ আলোচনায় মক্কায় মুসলমানরা যে অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলেন সে সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে ৷
২৭. এর মানে এ নয় যে, নাউযু বিল্লাহ ! সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার কাফেরদের স্বার্থে কুরআনে কিছু পরিবর্তন করার এবং কুরাইশ সরদারদের সাথে কিছু কমবেশীর ভিত্তিতে আপেস করে নেবার কথা চিন্তা করছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে এ কাজ করতে নিষেধ করছিলেন ৷ বরং মক্কার কারফেরদেরকে উদ্দেশ্য করে এর মধ্যে ব্যক্তব রাখা হয়েছে, যদিও বাহ্যত সম্বোধন করা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ৷ এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কাফেরদেরকে একথা বলা যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কালামের মধ্যে নিজের পক্ষ থেকে কোন কিছু কমবেশী করার অধিকার রাখেন না ৷ তাঁর কাজ শুধু এতটুকু, আল্লাহ যা কিছু নাযিল করেছেন তাকে কোন কিছু কমবেশী না করে হুবুহু মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন ৷ তুমি যদি মেনে নিতে চাও তাহেল বিশ্বজাহানের প্রভু আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দীন পেশ করা হয়েছে তাকে পুরোপুরি হুবুহু মেনে নাও ৷ আ যদি না মানতে চাও তাহেল সেটা তোমার খুশী তুমি মেনে নিয়ো না ৷ কিন্তু কোন অবস্থায় এ আশা করো না যে, তোমাকে রাজী করার জন্য তোমার খেয়াল খুশীমতো এ দীনের মধ্যে কোন আংশিক পর্যায়ের হলেও কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন করা হবে ৷ কাফেরদেরক পক্ষ থেকে বার বার এ মর্মে যে দাবী করা হচ্ছিল যে, আমরা তোমার কথা পুরোপুরি মেনে নেবো এমন জিদ ধরে বসে আছো কেন? আমাদে পৈতৃক দীনের আকীদা - বিশ্বাস ও রীতি - রেওয়াজের সুবিধা দেবার কথাটাও একটু বিবেচনা করো ৷ তুমি আমাদেরটা কিছু মেনে নাও এবং আমরা তোমারটা কিছু মেনে নিই ৷ এর ভিত্তিতে সমঝোতা হতে পারে এবং এভাবে গোত্রীয় সমপ্রীতি ও ঐক্য অটুট থাকতে পারে ৷ এটি হচ্ছে কাফেরদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এবং দাবীর জওয়াব ৷ কুরআনে একাধিক জায়গায় তাদের এ দাবী উল্লেখ করা হয়েছে এবং এর এ জওয়াবই দেয়া হয়েছে ৷ উদাহরণ স্বরূপ সূরা ইউনুসের ১৫ আয়াতটি দেখুন ৷ বলা হয়েছে :

আরবী ---------------------------------------------------------------------------

" যখন আমার আয়াত তাদেরকে পরিস্কার শুনিয়ে দেয়া হয় তখন যারা কখনো আমার সামনে হাযির হবার আকাংখা রাখে না তারা বলে, এ ছাড়া অন্য কোন কুরআন নিয়ে এসো অথবা এর মধ্যে কিছু কাটছাঁট করো ৷ "
২৮. ইবনে আব্বাসের (রা) বর্ণনা অনুযায়ী কুরাইশ সরদাররা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতো, বেলাল ( রা), সোহাইব (রা) আম্মার (রা) খব্বাব (রা) ও ইবনে মাসউদের (রা) মতো গরীব লোকেরা তোমার সাথে বসে, আমরা ওদের সাথে বসতে পারি না ৷ ওদেরকে হটাও তাহেল আমরা তোমার মজলিসে আসতে পারে এবং তুমি কি বলতে চাও তা জানতে পারে ৷ একথায় মহান আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমার চারদিকে জমায়েত হয়েছে এবং দিনরাত নিজেদের রবকে স্মরণ করছে তাদেরকে তোমার কাছে থাকতে দাও এব এ ব্যাপারে নিজের মনে কোন দ্বিধাদন্দ্ব আসতে দিও না এবং তাদের দিক থেকে কখনো দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না ৷ তুমি কি এ আন্তরিকতা সম্পন্ন লোকদেরকে ত্যাগ করে চাও যে, এদের পরিবর্তে পার্থিব জৌলুসের অধিকারী লোকেরা তোমার কাছে বসুক ? এ বাক্যেও বাহ্যত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে কিন্তু আসলে কুরাইশ সরদারদেরকে শুনানোই এখানে মূল উদ্দেশ্য যে, তোমাদের এ লোক দেখানো জৌলুস, যার জন্য তোমরা গর্বিত ৷ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কাছে এগুলোর কোন মূল্য ও মর্যাদা নেই ৷ যেসব গরীব লোকের মধ্যে আন্তরিকতা আছে এবং যারা নিজেদের রবের স্মরণ থেকে কখনো গাফিল হয় না তারা চাইতে অনেক বেশী মূল্যবান ৷ হযরত নূহ (আ) ও তাঁর সরদারদের মধ্যে ও ঠিক এ একই ঘটেছিল ৷ তারা হযরত নূহকে (আ) বলতো :

আরবী ---------------------------------------------------------------------------------

" আমরা তো দেখছি আমাদের মধ্যে যারা নিম্ন স্তরের লোক, তারাই না বুঝে সুজে তোমার পেছনে জড়ো হয়েছে ৷ "

হযরত নূহের ( আ) জবাব ছিল: (আরবী --------------) " যারা ঈমান এনেছে আমি তাদের তাড়িয়ে দিতে পারি না ৷ " এবং ( আরবী --------------------) " যাদেরকে তোমরা তাচ্ছিল্যের নজরে দেখো তাদের সম্বন্ধে আমি এ কথা বলতে পারি না যে, আল্লাহ তাদেরেকে কোন কল্যাণ দান করেননি ৷ " ( হুদ ২৭,২৯, ৩১ আয়াত, আন'আম ৫২ এবং আল হিজর ৮৮ আয়াত )
২৯. অর্থাৎ তার কথা মেনো না, তার সামনে মাথা নত করো না, তার ইচ্ছা পূর্ণ করো না এবং তার মাথায় চলো না ৷ এখানে আনুগত্য শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ৷
৩০. (আরবী ------------------------) এর একটি অর্থ তাই যা আমি অনুবাদে গ্রহণ করেছি ৷ এর দ্বিতীয় অর্থটি হচেছ, " যে ব্যক্তি সত্যেকে পেছনে রেখে এবং নৈতিক সীমারেখা লংঘন করে লাগামহীনভাবে চলে ৷ " উভয় অবস্থায় মূল কথা দাঁড়ায় ৷ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নিজের নফসের বান্দা হয়ে যায় তার প্রত্যেকটি কাজে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়ে যায় এবং আল্লাহর সীমারেখা সম্পর্কে তার কোন জ্ঞানই থাকে না ৷ এ ধরনের লোকের আনুগত্য করার মানে এ দাঁড়ায় যে, যে আনুগত্য করে সেও আল্লাহর সীমারেখা সম্পর্কে অজ্ঞ ও অচেতন থেকে যায়, আর যার আনুগত্য করা হয় যে বিভ্রান্ত হয়ে যেখানে যেখানে ঘুরে বেড়ায় আনুগত্যকারীও সেখানে সেখানে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকে ৷
৩১. এখানে এসে পরিস্কার বুজা যায় আসহাবে কাহফের কাহিনী শুনাবার পর কোন উপলক্ষে এ বাক্যটি এখানে বলা হয়েছে ৷ আসহাবে কাহফের যে কাহিনী ওপরে বর্ণনা করা হেযছে তাতে বলা হয়েছিল, তাওহীদের প্রতি ঈমান আনার পর তারা কিভাবে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলে দেন, " আমাদের রব তো একমাত্র তিনিই যিনি আকাশ ও পৃথিবীর রব ৷ " তারপর কিভাবে তারা নিজেদের পথভ্রষ্ট জাতির সাথে কোনভাবেই আপোস করতে রাযী হননি বরং পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে বলে দেন, " আমরা তাঁকে ছড়া অন্য কোন ইলাহকে ডাকবো না ৷ যদি আমরা এমনটি করি তাহলে তা হবে বড়ই অসংগত ও অন্যায় কথা ৷ " কিভাবে তারা নিজেদের জাতি ও তার উপাস্যদের ত্যাগ করে কোন প্রকার সাহায্য - সহায়তা ও সাজসরঞ্জাম ছাড়াই গুহার মধ্যে লুকিয়ে জীবন যাপন করা ব্যবস্থা করেছিল কিন্তু সত্য থেকে এক চুল পরিমাণও সরে গিয়ে নিজের জাতির সাথে আপোস করতে প্রস্তুত হয়নি ৷ তারপর যখন তারা জেগে উঠলেন তখনও তারা যে বিষয়ে চিন্তান্বিত হয়ে পড়লেন সেটি হচ্ছে এই যে আল্লাহ না করুন, যদি তাদের জাতি কোনভাবে তাদেরকে নিজেদের ধর্মের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় তাহলে তারা কখনো সাফল্য লাভ করতে পারবে না ৷ এসব ঘটনা উল্লেখ করার পর এখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে --- আর আসলে ইসলাম বিরোধীদেরকে শুনাবার উদ্দেশ্যেই তাঁকে বলা হচ্ছে --- যে , এ মুশরিক ও সত্য অস্বীকারকারী গোষ্ঠীর সাথে আপোস করার আদৌ কোন প্রশ্নই ওঠে না ৷ আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য এসেছে তাকে হুবুহু তাদের সামনে পেশ করে দাও ৷ যদি তারা মানতে চায় হহলে মেনে নিক আর যদি না মানতে চায় তাহেল নিজেরাই অশুভ পরিণামের মুখোমুখি হবে ৷ যারা মেনে নিয়েছে তারা কম বয়েসী যুবক অথবা অর্থ ও কপর্দকহীন ফকীর, মিসকীন, দাস বা মজুর যেই হোক না কেন তারাই মহামূল্যবান হীরার টুকরা এবং তাদেরকেই এখানে প্রিয়ভাজন করা হবে ৷ তাদেরকে বাদ দিয়ে এমন সব বড় বড় সরদার ও প্রধানদেরকে কোন কাজেই গ্রাহ্য করা হবে না তারা যত বেশী দুনিয়াবী শান শওকতের অধিকারী হোন না কেন তারা আল্লাহ থেকে গাফিল এবং নিজেদের প্রবৃত্তির দাস ৷
৩২. 'সুরাদিক ' শব্দের আসল মানে হচ্ছে তাঁবুর চারদিকের ক্যাস্বিস কাপড়ের ঘের ৷ কিন্তু জাহান্নামের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে বিচার করলে মনে হয় ' সুরাদিক 'মানে হবে তার লেলিহান শিখার বিস্তার এবং উত্তাপের প্রভাব বাইরের এলাকায় যতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে সেই সমগ্র এলাকার সীমানাই হচ্ছে ' সুরাদিক' ৷ আয়াতে বলা হয়েছে, " তার সুরাদিক তাদেরকে ঘিরে নিয়েছে ৷ " কেউ কেউ এটিকে ভবিষ্যত অর্থে নিয়েছে ৷ অর্থাৎ এর মানে এ বুঝেছে যে, পরলোকে জাহান্নামের আগুনের লেলিহান শিখা তাদেরকে ঘিরে ফেলবে ৷ কিন্তু আমি মনে করি এর মানে হবে, সত্য থেকে যে জালেম মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সে এখান থেকেই জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিশিখার আওতাভুক্ত হয়ে গেছে এবং তার হাত থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে পালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয় ৷
৩৩. 'মহল ' শব্দে বিভিন্ন অর্থ আরবী অভিধানগুলোর বর্ণনা করা হয়েছে ৷ কেউ কেউ এর মানে লিখেছেন তেলের তলানি ৷ কারোর মতে এ শব্দটি " লাভা " অর্থে ব্যবহৃত হয় ৷ কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, গলিত ধাতু ৷ আবার কারোর মতে এর মানে পুঁজ ও রক্ত ৷
৩৪. প্রাচীনকালে রাজা বাদশাহরা সোনার কাঁকন পরতেন ৷ জান্নাতবাসীদের পোশাকের মধ্যে এ জিনিসটির কথা বর্ণনা করার উদ্দেশ্যে হচ্ছে এ কথা জানিয়ে দেয়া যে, সেখানে তাদেরকে রাজকীয় পোশাক পরানো হবে ৷ একজন কাফের ও ফাসেক বাদশাহ সেখানে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবে এবং একজন মুমিন ও সৎ মজদুর সেখানে থাকবে রাজকীয় জৌলুসের মধ্যে ৷
৩৫. ' আরইক ' শব্দটি বহুবচন ৷ এর এক বচন হচ্ছে " আরীকাহ " আরবী ভাষায় আরীকাহ এমন ধরনের আসনকে বলা হয় যার ওপর ছত্র খাটানো আছে ৷ এর মাধ্যমেও এখানে এ ধারণা দেয়াই উদ্দেশ্য যে, সেখানে প্রত্যেক জান্নাতী রাজকীয় সিংহাসনে বসে থাকবে ৷