(১৭:১০১) আমি মূসাকে নয়টি নিদর্শন দিয়েছিলাম, সেগুলো সুস্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল৷ ১১৩ এখন নিজেরাই তোমরা বনী ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করে দেখে নাও যখন সেগুলো তাদের সামনে এলো তখন ফেরাউন তো একথাই বলেছিল, “হে মূসা ! আমার মতে তুমি অবশ্যই একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি৷”১১৪
(১৭:১০২) মূসা এর জবাবে বললো, “তুমি খুব ভাল করেই জানো এ প্রজ্ঞাময় নিদর্শনগুলো আকাশ ও পৃথিবীর রব ছাড়া আর কেউ নাযিল করেননি ১১৫ আর আমার মনে হয় হে ফেরাউন ! তুমি নিশ্চয়ই একজন হতভাগ্য ব্যক্তি৷ ১১৬
(১৭:১০৩) শেষ পর্যন্ত ফেরাউন ও বনী ইসরাঈলকে দুনিয়ার বুক থেকে উৎখাত করার সংকল্প করলো৷ কিন্তু আমি তাকে ও তার সংগী-সাথীদেরকে এক সাথে ডুবিয়ে দিলাম৷
(১৭:১০৪) এবং এরপর বনী ইসরাঈলকে বললাম, এখন তোমরা পৃথিবীতে বসবাস করো, ১১৭ তারপর যখন আখেরাতের প্রতিশ্রুতির সময় এসে যাবে তখন আমি তোমাদের সবাইকে এক সাথে হাযির করবো৷
(১৭:১০৫) এ কুরআনকে আমি সত্য সহকারে নাযিল করেছি এবং সত্য সহকারেই এটি নাযিল হয়েছে৷ আর হে মুহাম্মাদ! তোমাকে আমি এছাড়া আর কোনো কাজে পাঠাইনি যে, (যে মেনে নেবে তাকে) সুসংবাদ দিয়ে দেবে এবং (যে মেনে নেবে না তাকে) সাবধান করে দেবে৷ ১১৮
(১৭:১০৬) আর এ কুরআনকে আমি সামান্য সামান্য করে নাযিল করেছি, যাতে তুমি থেমে থেমে তা লোকদেরকে শুনিয়ে দাও এবং তাকে আমি (বিভিন্ন সময়) পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছি৷১১৯
(১৭:১০৭) হে মুহাম্মদ! এদেরকে বলে দাও, তোমরা একে মানো বা না মানো, যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেয়া হয়েছে ১২০ তাদেরকে যখন এটা শুনানো হয় তখন তারা আনত মস্তকে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে
(১৭:১০৮) এবং বলে ওঠে, “পাক-পবিত্র আমাদের রব, আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি তো পূর্ণ হয়েই থাকে”৷ ১২১
(১৭:১০৯) এবং তারা নত মুখে কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা শুনে তাদের দীনতা আরো বেড়ে যায়৷১২২
(১৭:১১০) হে নবী ! এদেরকে বলে দাও, আল্লাহ বা রহমান যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য সবই ভালো নাম৷ ১২৩ আর নিজের নামায খুব বেশী উচ্চ কণ্ঠেও পড়বে না, বেশী ক্ষীণ কণ্ঠেও না, বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি মধ্যম পর্যায়ের কণ্ঠস্বর অবলম্বন করবে৷১২৪
(১৭:১১১) আর বলো, সেই আল্লাহর প্রশংসা, যিনি কোনো পুত্রও গ্রহণ করেননি৷ তাঁর বাদশাহীতে কেউ শরীকও হয়নি এবং তিনি এমন অক্ষমও নন যে, কেউ তাঁর সাহায্যকারী ও নির্ভর হবে৷” ১২৫ আর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করো, চূড়ান্ত পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব৷
১১৩. এখানে আবার মক্কার কাফেরদের মু'জিযা পেশ করার দাবীর জাবা দেয়া হয়েছে এবং এটি তৃতীয় জবাব ৷ কাফেররা বলতো, আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো না যতক্ষণ না তুমি অমুক অমুক কাজগুলো করে দেখাবে ৷ জবাবে তাদেরকে বলা হচ্ছে, তোমাদের পূর্বে ফেরাউনকে এমনিতর সুস্পষ্ট মু'জিযা এক দু'টি নয় পরপর ৯ টি দেখানো হয়েছিল ৷ তারপর তোমরা জানো মেনে নেবার প্রবণতাই যার ছিল না সে এগুলো দেখে কি বললো? আর এটাও জানো যে, মু'জিযা দেকার পরও যখন সে নবীকে অস্বীকার করলো তখন তার পরিণতি কি হলো? এখানে যে ন'টি নিদর্শনে র কথা বরঅ হেযছে এর আগে সূরা আরাফেও সেগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে ৷ সেগুলো হচ্ছে: (১) লাঠি, যা সাপে পরিণতি হতো ৷ (২) সাদা হাত ও যা বগলের ভেতর থেকে বের করার পর সূর্যের মতো চমকাতে থাকতো ৷ (৩) যাদুকরদের যাদুকে প্রকাশ্য জনসমক্ষে পরভূত করা ৷ (৪) এক ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশ দুর্ভিক্ষ কবলিত হওয়া এবং তারপর একের পর এক (৫) তুফান, (৬) পংগপাল, (৭) শস্যকীট, (৮) ব্যাং এবং (৯) রক্তের আপদ নাযিল হওয়া ৷
১১৪. মক্কার মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে উপাধি দিতো এটি সেই একই উপাধি ৷ এ সূরার ৫ রুকূ' তে এদের এ উক্তিও এসেছে:

আরবী -----------------------) (তোমরা তো একজন যাদুগ্রস্ত লোকের পেছনে ছুটে চলছো ৷) এখন এদের বলা হচ্ছে, ঠিক এ একই উপাধিকে ফেরাউন মূসা আলাইহিস সালামকে ভূষিত করেছিল ৷

এখানে আর একটি আনুসংগিক বিষয়ও রয়েছে ৷ সেদিকে ইংগিত করে দেয়া আমি জরুরী মরে করি ৷ বর্তমান যুগে হাদীস অস্বীকারকারী গোষ্ঠী হাদীসের বিরুদ্ধে যেসব আপত্তি উঠিয়েছে তার মধ্যে একটি আপত্তি হচ্ছে এই যে, হাদীসের বক্তব্য মতে একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যাদুর প্রভাব পড়েছিল ৷ অথচ কুরআনের দৃষ্টিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম যে, একজন যাদু প্রভাবিত ব্যক্তি এটা ছিল কাফেরদের একটি মিথ্যা অপবাদ ৷ হাদীস অস্বীকারকারা বলেন এভাবে হাদীস বর্ণনাকারীগণ কুরআনকে মিথ্যুক এবং মক্কার কাফেরদেরকে সত্যবাদী প্রতিপন্ন করেছেন ৷ কিন্তু এখানে দেখুন কুরআনের দৃষ্টিতে হযরত মূসার ওপরও ফেরাউনের এ একই মিথ্যা দোষারোপ ছিল যে, আপনি একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি ৷ আবার কুরআন নিজেই সূরা ত্ব - হা' য় বলছে:

আরবী ------------------------------------------------------------------------

"যখন যাদুকররা নিজেদের ছুঁড়ে দিল তখন আকস্মাৎ তাদের যাদুর ফলে মূসার মনে হতে লাগলো যে তাদের লাঠি ও দড়িগুলো দৌড়ে চলেছে ৷ কাজেই মূসা মনে মনে ভয় পেয়ে গেলো ৷

এ শব্দগুলো কি সুস্পষ্টভাবে একথা প্রকাশ করছে না যে, হযরত মূসা সে সময় যদিও প্রভাবিত হয়ে পড়েছিলেন? হাদীস অস্বীকারকারীগণ কি এ প্রসংগেও বলতে প্রস্তুত আছেন যে, কুরআন নিজেই মিথ্যা এবং ফেরাউনের মিথ্যা অপবাদকে সত্য প্রতিপন্ন করেছে?

আসলে এ ধরনের আপত্তি উত্থাপনকারীরা জানেন না যে, মক্কার কাফেররা ও ফেরাউন কোন অর্থে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত মূসাকে ' যাদুগ্রস্ত ' বলতো ৷ তাদের বক্তব্য ছিল, কোন শত্রু যাদু করে তাঁদেরকে পাগল বানিয়ে দিয়েছে এবং এ পাগলামির প্রভাবে তারা নবুওয়াতের দাবী করছেন এবং একটি সম্পূর্ণ অভিনব বাণী শুনাচ্ছেন ৷ কুরআন তাদের এ অপবাদকে মিথ্যা গণ্য করেছে ৷ তাবে সাময়িকভাবে কোন ব্যক্তির শরীরে বা শরীরের কোন অনুভুতিতে যাদুর প্রভাবে পড়ার ব্যাপারটি স্বতন্ত্র ৷ এটা ঠিক এ রকম ব্যাপার যেমন কারোর গায়ে পাথর মারলে সে আহত হয় ৷ কাফেরদের অপবাদ এ ধরনের ছিল না ৷ কুরআনও এ ধরনের অপবাদের প্রতিবাদ করেনি ৷ এ ধরনের কোন সাময়িক প্রতিক্রিয়ায় নবীর মর্যাদা প্রভাবিত হয় না ৷ নবীর ওপর যদি বিষের প্রভাবে পড়তে পারে, নবী যদি আহত হতে পারেন, তাহলে তাঁর ওপর যাদুর প্রভাবও পড়তে পারে ৷ এর ফলে নবুওয়াতের মর্যাদা বিনষ্ট হতে পারে কি কারণে? নবীর মন - মস্তিষ্ক যদি যাদুর প্রভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ে, এমনকি তিনি যাদুর প্রভাবাধীনেই কথা বলতে ও কাজ করতে থাকেন তাহলেই এর ফলে নবুওয়াতের মর্যাদা বিনষ্ট হতে পারে ৷ সত্য বিরোধীরা হযরত মূসা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে এ অপবাদ দিতো এবং কুরআন এরই প্রতিবাদ করেছে ৷
১১৫. একথা হযরত মূসা (আ) এ জন্য বলেন যে, কোন দেশে দুর্ভিক্ষ লাঘা বা লাখো বর্গকিলোমিটার বিস্তৃতি এলাকায় ধ্বংসের বিভীষিকা নিয়ে পংগপালের মতো ব্যাঙ বের হয়ে আসা অথবা শস্য গুদামগুলোর ব্যাপকভাবে পোকা লেগে যাওয়া এবং এ ধরনের অন্যান্য জাতীয় দুর্যোগ দেখা দেয়া কোন যাদুকরের যাদুর বলে বা কোন মানুষের ক্ষমতায় সম্ভবপর ছিল না ৷ তারপর যখন প্রত্যেকটি দুর্যোগ শুরু হওয়ার পূর্বে হযরত মূসা ফেরাউনকে এ বলে নোটিশ দিতেন যে, তোমার হঠকারিতা থেকে বিরত না হলে এ দুর্যোগটি তোমার রাজ্যে চেপে বসবে এবং ঠিক তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী সেই দুর্যোগটি সমগ্র রাজ্যের গ্রাস করে ফেলতো, তখন এ অবস্থায় কেবলমাত্র একজন পাগল ও চরম হঠকারী ব্যক্তিই একথা বলতে পারতো যে, এ বিপদ ও দুর্যোগগুলো পৃথিবী ও আকাশ মণ্ডলীর একচ্ছত্র অধিপতি ছাড়া অন্য কেউ নাযিল করেছে ৷
১১৬. অর্থাৎ আমি তো যাদুগ্রস্ত নই, তবে তোমার ওপর নিশ্চয়ই দুর্ভাগ্যের পদাঘাত হয়েছে ৷ আল্লাহর এ নিদর্শনগুলো একের পর এক দেখার পরও তোমার নিজের হঠকারিতার ওপর ঠায় দাঁড়িয়ে থাকো একথা পরিস্কারভাবে জানিয়ে দেয় যে, তোমার কপাল পুড়েছে ৷
১১৭. এটিই হচ্ছে এ কাহিনীটি বর্ণনা করার মূল উদ্দেশ্য ৷ মক্কার মুশরিকরা মুসলমানদেরকে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরবের মাটি থেকে উৎখাত করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছিল ৷ তাই তাদেরকে শুনানো হচ্ছে, ফেরাউন এসব কিছু করতে চেয়েছিল মূসা ও বনী ইসরাঈলের সাথে ৷ কিন্তু কার্যত হয়েছে যে, ফেরাউন ও তার সাথীদেরকে নির্মূল ও নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে এবং পৃথিবীতে মূসা ও তার অনুসারীদেরকে বসবাস করার ব্যব্‌স্থা করা হয়েছে ৷ এখন তোমরাও যদি এ একই পথ অবলম্বন করো তাহলে তোমাদের পরিণামও এর থেকে ভিন্ন কিছু হবে না ৷
১১৮. অর্থাৎ তোমাদের একথা বলা হয়নি যে, যারা কুরআনের শিক্ষবলী যাচাই করে হক ও বাতিলের ফায়সালা করতে প্রস্তুত নয় তাদেরকে তোমরা ঝরণাধারা প্রবাহিত করে, বাগান তৈরী করে এবং আকাশ চিরে কোন না কোনভাবে মুমিন বানাবার চেষ্টা করবে ৷ বরং তোমাদের কাজ শুধু মাত্র এতটুকুই: তোমরা লোকদের সামনে হক কথা পেশ করে দাও, তারপর তাদেরকে পরিস্কার জানিয়ে দাও, যে একথা মেনে নেবে যে, ভাল কাজ করবে এবং যে মেনে নেবে না সে খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে ৷
১১৯. এটি বিরোধীদের একটি সংশয়ের জবাব ৷ তারা বলতো, আল্লাহর পয়গাম পাঠাবার দরকার হলে সম্পূর্ণ পয়গাম এক সংগে পাঠান না কেন? এভাবে থেমে থেমে সামান্য সামান্য পয়গাম পাঠানো হচ্ছে কেন? আল্লাহকেও কি মানুষের মতো ভেবে চিন্তে কথা বলতে হয়? এ সংশয়ী বক্তব্যের বিস্তারিত জবাব সূরা নাহলের ১৪ রুকূ 'তে প্রথম দিকের আয়াতগুলোতে দেয়া হয়েছে ৷ সেখানে আমি এর ব্যাখ্যা করেছি ৷ তাই এখানে এর পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন বোধ করছি না ৷
১২০. অর্থাৎ যে আহলি কিতাব গোষ্ঠী আসমানী কিতাবসমূহ শিক্ষা সম্পর্কে অবগত এবং যারা তার বাচনভংগীর সাথে পরিচিত ৷
১২১. অর্থাৎ কুরআন শুনার সাথে সাথেই তারা বুঝতে পারে, যে নবীর আগমনের প্রতিশ্রুতি পূর্ববর্তী নবীগণের সহীফাসমূহ দেয়া হয়েছিল তিনি এসে গেছেন ৷
১২২. আহিল কিতবদের সত্যনিষ্ঠ ও সৎকর্মশীল লোকদের এ মনোভাব ও প্রতিক্রিয়ার কথা কুরআন মজীদের বহু জায়গায় বর্ণনা করা হয়েছে ৷ যেমন আলে ইমরান ১২ ও ২০ রুকূ' এবং আল মায়েদার ১১ রুকূ; দেখুন ৷
১২৩. এটি মুশরিকদের একটি আপত্তির জবাব ৷ তারা এ মর্মে আপত্তি জানিয়েছিল যে, স্রষ্টার নাম "আল্লাহ "এটা আমরা শুনেছিলাম কিন্তু এ "রহমান "নাম কোথায় থেকে আনলে? তাদের মধ্যে যেহেতু আল্লাহর এ নামের প্রচলন ছিল না তাই তারা তাঁর রহমান শুনে নাক সিটকাতো ৷
১২৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, মক্কায় যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অথবা সাহাবীগণ নামায পড়ার সময় উচ্চকণ্ঠে কুরআন পড়তেন তখন কাফেররা শোরগোল করতো এবং অনেক সময় এক নাগাড়ে গালিগালাজ করতো ৷ এ জন্য হুকুম দেয়া হলো, এমন উচ্চস্বরে পড়ো না যাতে কাফেররা শুনে হৈ - হুল্লোড় করতে পারে আবার এমন নিচ স্বরেও পড়ো না যা তোমাদের নিজেদের সাথীরাও শুনতে না পায় ৷ কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট অবস্থার সাথে এ হুকুম সম্পৃক্ত ছিল ৷ মদীনায় যখন অবস্থা বদলে গেলো তখন আর এ হুকুম কার্যকর থাকেনি ৷ তবে হাঁ, মুসলমানরা যখনই মক্কার মতো অবস্থার সম্মুখীন হয় তখনই তাদের এ নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা উচিত ৷
১২৫. যেসব মুশরিক বিভিন্ন দেবতা ও জ্ঞানী গুণী মহামানবদের সম্পর্কে বিশ্বাস করতো যে, আল্লাহ নিজের সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিভিন্ন বিভাগ এবং নিজের রাজত্বের বিভিন্ন এলাকা তাদের ব্যবস্থাপনায় দিয়ে দিয়েছেন তাদের এ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এ বাক্যে রয়েছে একটি সূক্ষ্ম বিদ্রূপ ৷ এ অর্থহীন বিশ্বাসটির পরিস্কার অর্থ হচ্ছে এই যে, আল্লাহ নিজে তাঁর সার্বভৌম কর্তৃত্বের বোঝা বহন করতে অক্ষম ৷ তাই তিনি নিজের জন্য কোন সাহায্যকারী ও নির্ভর তালাশ করে বেড়াচ্ছোন ৷ তাই বলা হয়েছে, আল্লাহ অক্ষম নন ৷ তাঁর কোন ডেপুটি, সহকারী ও সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই ৷