(১৫:৬১) প্রেরিতরা যখন লূতের পরিবারের কাছে পৌঁছুলো ৩৫
(১৫:৬২) তখন সে বললো, আপনারা অপরিচিত মনে হচ্ছে৷ ৩৬
(১৫:৬৩) তারা জবাব দিল, না, বরং আমরা তাই এনেছি যার আসার ব্যাপারে এরা সন্দেহ করছিলো৷
(১৫:৬৪) আমরা তোমাকে যথার্থই বলছি, আমরা সত্য সহকারে তোমার কাছে এসেছি৷
(১৫:৬৫) কাজেই এখন তুমি কিছু রাত থাকতে নিজের পরিবারবর্গকে নিয়ে বের হয়ে যাও এবং তুমি তাদের পেছনে পেছনে চলো৷ ৩৭ তোমাদের কেউ যেন পেছন ফিরে না তাকায়৷ ৩৮ ব্যাস, সোজা চলে যাও যেদিকে যাবার জন্য তোমাদের হুকুম দেয়া হচ্ছে৷
(১৫:৬৬) আর তাকে আমি এ ফায়সালা পৌঁছিয়ে দিলাম যে, সকাল হতে হতেই এদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়া হবে৷
(১৫:৬৭) ইত্যবসরে নগরবাসীরা মহা উল্লাসে উচ্ছ্বসিত হয়ে লূতের বাড়ি চড়াও হলো৷৩৯
(১৫:৬৮) লূত বললো, ভাইয়েরা আমার ! এরা হচ্ছে আমার মেহমান, আমাকে বে-ইজ্জত করো না৷
(১৫:৬৯) আল্লাহকে ভয় করো, আমাকে লাঞ্ছিত করো না৷
(১৫:৭০) তারা বললো, আমরা না তোমাকে বারবার মানা করেছি, সারা দুনিয়ার ঠিকেদারী নিয়ো না ?
(১৫:৭১) লূত লাচার হয়ে বললো, যদি তোমাদের একান্তই কিছু করতেই হয় তাহলে এই যে আমার মেয়েরা রয়েছে৷ ৪০
(১৫:৭২) তোমার জীবনের কসম হে নবী ! সে সময় তারা যেন একটি নেশায় বিভোর হয়ে মাতালের মতো আচরণ করে চলছিল৷
(১৫:৭৩) অবশেষে প্রভাত হতেই একটি বিকট আওয়াজ তাদেরকে আঘাত করলো
(১৫:৭৪) এবং আমি সেই জনপদটি ওলট পালট করে রেখে দিলাম আর তাদের ওপর পোড়া মাটির পাথর বর্ষণ করলাম৷৪১
(১৫:৭৫) প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ লোকদের জন্য এ ঘটনার মধ্যে বিরাট নিদর্শন রয়েছে৷
(১৫:৭৬) সেই এলাকাটি (যেখানে এটা ঘটেছিল) লোক চলাচলের পথের পাশে অবস্থিত৷ ৪২
(১৫:৭৭) ঈমানদার লোকদের জন্য এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় রয়েছে৷
(১৫:৭৮) আর আইকাবাসীরা ৪৩ জালেম ছিল৷
(১৫:৭৯) কাজেই দেখে নাও আমিও তাদের ওপর প্রতিশোধ নিয়েছি৷ আর এ উভয় সম্প্রদায়ের বিরাণ এলাকা প্রকাশ্য পথের ধারে অবস্থিত৷ ৪৪
৩৫. তুলনামূলক পার্যালোচনার জন্য সূলা ' আরাফের ১০ রুকূ' এবং সূরা হূদের ৭ রুকূ ' দেখুন ৷
৩৬. এখানে বক্তব্য সংক্ষেপ করা হয়েছে ৷ সূরা হূদে ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে ৷ সেখানে বলা হয়েছে , তাদের আগমনে হযতর লূত ( আ) অত্যন্ত ভীত- সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন ৷ তাঁর মন ভীষণভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ে ৷ তাদেরকে দেখার সাথে সাথেই তিনি মনে মনে বলতে থাকেন আজ বড় কঠিন সময় এসেছে ৷ তাঁর এ ভয়ের কারণ হিসেবে কুরআনের বর্ণনা থেকে যে ইংগিত এবং হাদীস থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় তা হচ্ছে এই যে , এ ফেরেশতারা অত্যন্ত সুশ্রী কিশোরদের আকৃতি ধরে হযরত লূতের কাছে এসেছিলেন ৷ এদিকে হযরত লূত (আ) তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের চারিত্রিক দুষ্কৃতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন ৷ তিনি আগত মেহমানদেরকে ফিরিয়ে দিতে পারছিলেন না আবার নিজের সম্প্রদায়ের বদমায়েশদের হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করাও তাঁর পক্ষে কঠিন ছিল ৷ তাই তিনি বড়ই পেরেশান হয়ে পড়েছিলেন ৷
৩৭. অর্থাৎ নিজের পরিবারবর্গের পেছনে পেছনে এ জন্য চলো যেন তাদের কেউ থেকে যেতে না পারে ৷
৩৮. এর মানে এ নয় যে , পেছন ফিরে তাকালেই তোমরা পাথর হয়ে যাবে , যেমন বাইবেলে বলা হয়েছে ৷ বরং এর মানে হচ্ছে , পেছনের আওয়াজ শোর গোল শুনে তামাশ দেখার জন্য থেমে যেয়ো না ৷ এটা তামাশ দেখার সময় নয় এবং অপরাধী জাতির ধ্বংসক্রিয়া দেখে অশ্রুপাত করার সময়ও নয় ৷ এক মুহূর্ত যদি তোমরা আযাব প্রাপ্ত জাতির এলাকায় থেমে যাও তাহলে ধবংস - বৃষ্টির কিছুটা তোমাদের ওপরও বর্ষিত হতে পারে এবং তাতে তোমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারো ৷
৩৯. এ থেকে এ জাতির ব্যভিচারবৃত্তি কোন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল তা অনুমান করা যেতে পারে ৷ জনপদের এক ব্যক্তির বাড়িতে কয়েকজন সুশ্রী অতিথি এসেছেন ৷ ব্যাস , আর যায় কোথায় অমনি তার বাড়িতে বিপুল সংখ্যক দুর্বৃত্ত চড়াও হয় এবং তা অতিথিদের কাছে প্রকাশ্যে দাবী জানাতে থাকে যে তার অতিথিদেরকে দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দিতে হবে , যাতে তারা তাদের সাথে ব্যভিচার করতে পারে ৷ তাদের সারা জনপদে তাদের এসব কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মত কেউ ছিল না ৷ তাদের জাতির নৈতিক চেতনাও খতম হয়ে গিয়েছিল ৷ ফলে লোকেরা প্রকাশ্যে এ ধরনের বাড়াবাড়ি করতে লজ্জাবোধ করতো না ৷ হযরত লূতের (আ) মত পবিত্রাত্মা ও নৈতিকতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের গৃহে যখন বদমায়েশদের এমন নির্লজ্জ হামলা হতে পারে তখন এ থেকে আন্দাজ করা যেতে পারে যে , এসব জনবসতিতে সাধারণ মানুষদের সাথে কোন ধরনের ব্যবহার করা হতো ৷

তালমূদে এ জাতির যে অবস্থা লিখিত হয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র এখানে তুলে ধরছি ৷ এ থেকে এ জাতিটি নৈতিক অধোপতনের কোন প্রান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল তার কিছুটা বিস্তারিত সংবাদ জানা যাবে ৷ তুলমূদে বলা হয়েছে : একবার আইলাম এলাকার একজন মুসাফির এ জাতিটির এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল ৷ পথে রাত হয়ে গেল ৷ ফলে তাকে বাধ্য হয়ে তাদের সামুদ নগরীতে অবস্থান করতে হলো ৷ তার সাথে ছিল তার নিজের পাথেয় ৷ কারোর কাছে সে অতিথি হবার আবেদন জানালো না ৷ সে একটি গাছের নীচে বসে পড়লো কিন্তু একজন সামুদবাসী পীড়াপীড়ি করে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এল ৷ রাত্রে তাকে নিজের কাছে রাখলো এবং প্রভাত হবার আগেই তার গাধাটি তার জীন ও বাণিজ্যিক মালপত্রসহ লোপাট করে দিল ৷ বিদেশী লোকটি শোরগোল করলো ৷ কিন্তু কেউ তার ফরিয়াদ শুনলো না ৷ বরং জনবসতির লোকেরা তার অন্যান্য মালপত্রও লুট করে নিয়ে তাকে বাইরে বের করে দিল ৷

একবার হযরত সারা হযরত লূতের পরিবারের খবরাখবর সংগ্রহের জন্য নিজে গোলাম ইলিয়াযিরকে সাদুমে পাঠালেন ৷ ইলিয়াযির নগরীতে প্রবেশ করে দেখলেন , একজন সাদুমী একজন বিদেশীকে মারছে ৷ ইলিয়াযির সাদুমীকে বললো , তোমার লজ্জা হয় না তুমি একজন অসহায় মুসাফিরের সাথে এ ব্যবহার করছো? কিন্তু জবাবে সর্বসমক্ষে ইলিয়াযিরের মাথা ফাটিয়ে দেয়া হলো ৷

একবার এক গরীব লোক কোথাও থেকে তাদের শহরে এলো ৷ কেউ তাকে খাবার দাবারের জন্য কিছু দিল না ৷ সে ক্ষুধায় অবসন্ন হয়ে এক জায়গায় মাটিতে পড়েছিল ৷ এ অবস্থায় হযরত লূতের ( আ) মেয়ে তাকে দেখতে পেলেন ৷ তিনি তার কাছে খাবার পৌঁছে দিলেন ৷ এ জন্য হযরত লূত ( আ) ও তাঁর মেয়েকে কঠোরভঅবে নিন্দা করা হলো এবং তাদেরকে এই বলে হুমকি দেয়া হলো যে , এ ধরনের কাজ করতে থাকলে তোমরা আমাদের জনবসতিতে থাকতে পারবে না ৷

এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা বর্ণনা করার পর তালমূদ রচয়িতা লিখছেন , নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে এ লোকেরা ছিল বড়ই জালেম , ধোঁকাবাজ এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে অসৎ ৷ কোন মুসাফির তাদের এলাকা নিরাপদে অতিক্রম করতে পারতো না ৷ তাদের লোকালয় থেকে কোন গরীব ব্যক্তি এক টুকরো রুটি সংগ্রহ করতে পারতো না ৷ বহুবার এমন দেখা গেছে বাইরের কোন লোক তাদের এলাকায় প্রবেশ করে অনাহারে মারা গেছে এবং তারা তার গায়ের পোশাক খুলে নিয়ে গিয়ে তার লাশকে উলংগ অবস্থায় দাফন করে দিয়েছে ৷ বাইরের ব্যবসায়ীরা দুর্ভাগ্যক্রমে সেখানে পৌঁছে গেলে সর্বসমক্ষে তাদের মালামাল লুট করে নেয়া হতো এবং তাদের ফরিয়াদের জবাবে ঠাট্টা - বিদ্রূপ করা হতো ৷ নিজেদের উপত্যকাকে তারা একটি উদ্যান বানিয়ে রেখেছিল ৷ মাইলের পর মাইল ব্যাপী ছিল এ উদ্যান ৷ একমাত্র লূত আলাইহিস সালাম ছাড়া তাদের এসব কাজের প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না ৷ এ সমগ্র কাহিনীকে সংক্ষেপ করে কুরআন মজীদে শুধুমাত্র দু'টি বাক্য প্রকাশ করা হয়েছে ৷ বলা হয়েছে :

আরবী -----------------------------------------------------------------------------

"তারা আগে থেকেই অনেক খারাপ কাজ করে আসছিল ৷ " ( হূদ : ৭৮ )

আরবী -----------------------------------------------------------------------------

" তোমরা পুরুষদের দ্বারা যৌন কামনা পূর্ণ করো , মুসাফিরদের মালপত্র লুটপাট করো এবং নিজেদের মজলিসমূহের প্রকাশ্যে দুষ্কর্ম করো ৷ " ( আনকাবুত : ২৯ )

৪০. সূরা হূদের ৮৭ টীকায় এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে ৷ এখানে কেবল এতটুকুন ইংগিতেই যতেষ্ট যে , একথাগুলো একজন ভদ্রলোকের মুখ থেকে এমন সময় বের হয়েছে যখন তিনি একবারেই লাচার হয়ে গিয়েছিলেন এবং বদমায়েশরা তাঁর কোন ফরিয়াদ ও আবেদন নিবেদনে কান না দিয়ে তার মেহমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছিল ৷ এ সুযোগে একটি কথা পরিস্কার করে দেয়া প্রয়োজন ৷ সূরা হূদে ঘটনাটি যে ধারাবহিকতার সাথে বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে জানা যায় যে , বদমায়েশদের এ হামলার সময় পর্যন্তও হযরত লূত ( আ) একথা জানাতেন না যে , তাঁর মেহমানরা আসলে আল্লাহর ফেরেশতা ৷ তখনো পর্যন্ত তিনি মনে করছিলেন , এ ছেলে কয়টি মুসাফির এবং এরা তাঁর বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে ৷ বদমায়েশদের দল যখনই মেহমানদের অবস্থান স্থলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং হযরত লূত (আ) অস্থির হয়ে বলে উঠলেন ( হায়, যদি আমার তোমাদের মোকবিলা করার শক্তি থাকতো অথবা আমার সাহায্য - সহযোগিতা গ্রহণ করার মতো কোন সহায় থাকতো!) তখনই মেহমানরা নিজেদের ফেরেশতা হবার কথা প্রকাশ করলো ৷ এরপর ফেরেশতারা তাঁকে বললো , এখন আপনি নিজের পরিবারবর্গকে নিয়ে এখান থেকে বের হয়ে যান এবং এদের সাথে বোঝাপড়া করার জন্য আমাদের ছেড়ে দেন ৷ ঘটনাবলীর এ ধারাবহিকতা সামনে রাখার পর কোন সংকটপূর্ণ অবস্থায় একেবারে লাচার হয়ে হযরত লূত ( আ) একথা বলেছিলেন তা পুরোপুরি অনুমান করা যেতে পারে ৷ ঘটনাগুলো যে ধারাবহিকতায় সংঘটিত হয়েছিল এ সূরায় সেগুলো বর্ণনা করার সময় যেহেতু সেই ধারাবহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়নি বরং যে বিশেষ দিকটি শ্রোতাদের মনে বদ্ধমূল করার জন্য এ কাহিনীটি এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে সেটিকে বিশেষভাবে সুস্পষ্ট করাই এখানে কাম্য ৷ তাই একজন সাধারণ পাঠক এ ভুল ধারণা পোষণ করতে পারে যে , ফেরেশতারা শুরুতেই হযরত লূতের কাছে নিজেদের পরিচয় দিয়েছিল এবং এখন নিজের মেহমানদের ইজ্জত- আব্রু বাঁচাবার জন্য তাঁর এ সমস্ত ফরিয়াদ ও আবেদন নিবেদন নিছক নাটুকেপনা ছাড়া আর কিছুই নয় ৷
৪১. এ পোড়া মাটির পাথর বৃষ্টি হতে পারে উলকাপাত ধরনের কিছু ৷ আবার আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে তা মৃত্তিকা গর্ভ থেকে বের হয়ে তাদের ওপর চতুরদিক থেকে বৃষ্টির মত বর্ষিত হয়ে থাকতে পারে ৷ তাছাড়া একটি মারাত্মক ধরনের ঘূর্ণি ঝড়ও তাদের ওপর এ পাথর বৃষ্টি করতে পারে ৷
৪২. অর্থাৎ হেজায থেকে সিরিয়া এবং ইরাক থেকে মিসর যাবার পথে এই ধবংসপ্রাপ্ত এলাকটি পড়ে ৷ সাধারণত বাণিজ্য যাত্রীদল এ ধ্বংসের নিদর্শনগুলো দেখে থাকে ৷ আজো সমগ্র এলাকা জুড়ে এ ধবংসাবশেষগুলো ছড়িয়ে আছে ৷ এ এলাকাটির অবস্থান লূত সাগরের পূর্বে ও দক্ষিণে ৷ বিশেষ করে এর দক্ষিণ অংশ সম্পর্কে ভূগোলবিদগণের বর্ণনা হচ্ছে , এ এলাকাটি এত বেশী বিধ্বস্ত যার নজীর দুনিয়ার আর কোথাও পাওয়া যায় না ৷
৪৩. অর্থাৎ হযরত শো' আয়েবের (আ) সম্প্রদায়ের লোক ৷ এ সম্প্রদায়টির নাম ছিল বনী মাদইয়ান ৷ তাদের এলাকার কেন্দ্রীয় শহরেরও নাম ছিল মাদইয়ান এবং সমগ্র এলাকটিকেও মাদইয়ান বলা হতো ৷ আর " আইকা" ছিল তাবুকের প্রাচীন নাম ৷ এ শব্দটির শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ঘন জংগল ৷ বর্তমানে একটি পাহাড়ী ঝরণার নাম আইকা ৷ এটি জাবালে নূরে উৎপন্ন হয়ে আফাল উপত্যকায় এসে পড়ছে ৷ ( ব্যাখ্যার জন্য সূরা শূ'আরার ১১৫ টীকা দেখুন )
৪৪. মাদইয়ান ও আইকাবাসীদের এলাকাও হেজায থেকে ফিলিস্তিন ও সিরিয়া যাবার পথে পড়ে ৷