(১৫:৪৫) অন্যদিকে মুত্তাকীরা ২৭ থাকবে বাগানে ও নির্ঝরিণীসমূহে
(১৫:৪৬) এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা এগুলোতে প্রবেশ করো শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে৷
(১৫:৪৭) তাদের মনে যে সামান্য কিছু মনোমালিন্য থাকবে তা আমি বের করে দেবো, ২৮ তারা পরস্পর ভাই ভাইয়ে পরিণত হয়ে মুখোমুখি আসনে বসবে৷
(১৫:৪৮) সেখানে তাদের না কোনো পরিশ্রম করতে হবে আর না তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃত হবে৷২৯
(১৫:৪৯) হে নবী ! আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আমি বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়৷
(১৫:৫০) কিন্তু এ সংগে আমার আযাবও ভয়ংকর যন্ত্রণাদায়ক৷
(১৫:৫১) আর তাদেরকে ইবরাহীমের মেহমানদের কাহিনী একটু শুনিয়ে দাও৷ ৩০
(১৫:৫২) যখন তারা এলো তার কাছে এবং বললো, সালাম তোমার প্রতি, সে বললো, “আমরা তোমাদের দেখে ভয় পাচ্ছি”৷ ৩১
(১৫:৫৩) তারা জবাব দিল, ভয় পেয়ো না, আমরা তোমাকে এক পরিণত জ্ঞান সম্পন্ন পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি৷৩২
(১৫:৫৪) ইবরাহীম বললো, তোমরা কি বার্ধক্যবস্থায় আমাকে সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছো ? একটু ভেবে দেখো তো এ কোন্‌ ধরনের সুসংবাদ তোমরা আমাকে দিচ্ছো ?
(১৫:৫৫) তারা জবাব দিল, আমরা তোমাকে সত্য সংসংবাদ দিচ্ছি, তুমি নিরাশ হয়ো না৷
(১৫:৫৬) ইবরাহীম বললো, পথভ্রষ্ট লোকেরাই তো তাদের রবের রহমত থেকে নিরাশ হয়৷
(১৫:৫৭) তারপর ইবরাহীম জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর প্রেরিতরা ! তোমরা কোন্‌ অভিযানে বের হয়েছো ? ৩৩
(১৫:৫৮) তারা বললো, আমাদের একটি অপরাধী সম্প্রদায়ের দিকে পাঠানো হয়েছে৷ ৩৪
(১৫:৫৯) শুধুমাত্র লূতের পরিবারবর্গ এর অন্তরভুক্ত নয়৷ তাদের সবাইকে আমরা বাঁচিয়ে নেবো,
(১৫:৬০) তার স্ত্রী ছাড়া, যার জন্য (আল্লাহ বলেনঃ) আমি স্থির করেছি, সে পেছনে অবস্থানকারীদের সাথে থাকবে৷
২৭. অর্থাৎ যারা শয়তানের পদানুসরণ থেকে দূরে থেকেছে এবং আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে তাঁর বন্দেগী ও দাসত্বের জীবন যাপন করেছে ৷
২৮. অর্থাৎ সৎ লোকদের মধ্যে পারস্পরিক ভুল বুঝাবুঝির কারণে দনিয়ার জীবনে যদি কিছু মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করার সময় তা দূর হয়ে যাবে এবং পরস্পরের পক্ষ থেকে তাদের মন একেবারে পরিস্কার করে দয়ো হবে ৷ ( আরো ব্যাখ্যার জন্য সূরা আরাফের ৩২ টীকা দেখুন )
২৯. নিম্নলিখিত হাদীস থেকে এর ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ৷ এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়েছেন : আরবী --------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- অর্থাৎ " জান্নাতবাসীদেরকে বলে দেয়া হবে , এখন তোমরা সবসময় সুস্থ থাকবে , কখনো রোগাক্রান্ত হবে না ৷ এখন তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে , কখনো মরবে না ৷ এখন তোমরা চির যুবক থাকবে , কখনো বৃদ্ধ হবে না ৷ এখন তোমরা হবে চির অবস্থানকারী , কখনো স্থান ত্যাগ করতে হবে না ৷ " এর আরো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এমন সব আয়াত ও হাদীস থেকে যেগুলোতে বলা হয়েছে জান্নাতে নিজের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য মানুষকে কোন শ্রম করতে হবে না ৷ বিনা প্রচষ্টায় ও পরিশ্রম ছাড়াই সে সবকিছু পেয়ে যাবে ৷
৩০. এখানে যে উদ্দেশ্যে হযত ইবরাহীম এবং তার সাথে সাথে লূতের সম্প্রদায়ের কাহিনী শুনানো হচ্ছে তা অনুধাবন করার জন্য এ সূরার প্রথম দিকের আয়াতগুলো সমানে থাকা প্রয়োজন ৷ প্রথম দিকে ৭ ও ৮ আয়াতে কাফেরদের এ উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে যে , তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতো : " যদি তুমি সাচ্চা নবী হয়ে থাকো তাহলে ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে আনছো না কেন ? " সেখানে এ প্রশ্নটির নিছক একটি সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল ৷ সেখানে বলা হয়েছিল : "ফেরেশতাদেরকে আমি এমনি অযথা পাঠাই না যখনই তাদেরক পাঠাই সত্য সহকারে পাঠাই ৷ " এখন এখানে এর বিস্তারিত জবাব এ দু'টি কাহিনীর আকারে দেয়া হচ্ছে ৷ এখানে তাদেরকে জানানো হচ্ছে যে , একটি "সত্য " নিয়ে ফেরেশতারা ইবরাহীমের কাছে এসেছিল আবার অন্য একটি সত্য নিয়ে তারা এসেছিল লূতের সম্প্রদায়ের কাছে ৷ এখন তোমরা নিজেরাই দেখে নাও , ঐ দু'টি সত্যের মধ্য থেকে কোনটি নিয়ে ফেরেশতারা তোমাদের কাছে আসতে পারে ? একথা সুস্পষ্ট যে, ইবরাহীমের কাছে যে সত্য নিয়ে তারা এসেছিল সেটি লাভ করার যোগ্যতা তোমাদের নেই ৷ এখন কি যে সত্যটি নিয়ে তারা লূতের সম্প্রদায়ের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল সেটি সহকারে তোমরা তাদেরকে আনতে চাও ?
৩১. তুলনামূলক অধ্যয়নের জন্য সূরা হূদের ৭ রুকূ' টীকা সহকারে দেখুন ৷
৩২. অর্থাৎ হযরত ইসহাকের ( আ) জন্মের সুসংবাদ ৷ সূরা হূদে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে ৷
৩৩. হযরত ইবরাহীমের (আ) এ প্রশ্নটি থেকে পরিস্কার প্রমাণ হয় যে , ফেরেশতারা সবসময় অস্বাভাবিক অবস্থায়ই মানুষের আকৃতি ধরে আসেন এবং বড় বড় ও গুরুতর ধরনের অভিযানেই তাদেরকে পাঠানো হয় ৷
৩৪. এ ধরনের সংক্ষিপ্ত ইংগিত থেকে পরিস্কার বুঝা যায় যে , লূতের সম্প্রদায়ের অপরাধের পেয়ালা তখন কানায় কানায় ভরে উঠেছিল ৷ যার ফলে হযরত ইবরাহীমের (আ) মত সজাগ ও অভিজ্ঞ লোকের সামনে তার নাম উচ্চারণ করার আদৌ প্রয়োজনই হয়নি ৷ কাজেই শুধুমাত্র " একটি অপরাধী সম্প্রদায়" বলাই যথেষ্ট বিবেচিত হয়েছে ৷