(১৫:২৬) আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি শুকনো ঠন্‌ঠনে পচা মাটি থেকে৷১৭
(১৫:২৭) আর এর আগে জিনদের সৃষ্টি করেছি আগুনের শিখা থেকে৷১৮
(১৫:২৮) তারপর তখনকার কথা স্মরণ করো যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, আমি শুকনো ঠন্‌ঠনে পচা মাটি থেকে একটি মানুষ সৃষ্টি করছি৷
(১৫:২৯) যখন আমি তাকে পূর্ণ অবয়ব দান করবো এবং তার মধ্যে আমার রূহ থেকে কিছু ফুঁক দেবো৷১৯ তখন তোমরা সবাই তার সামনে সিজদাবনত হয়ো৷
(১৫:৩০) সেমতে সকল ফেরেশতা একযোগে তাকে সিজদা করলো,
(১৫:৩১) ইবলীস ছাড়া, কারণ সে সিজদাকারীদের অন্তরভুক্ত হতে অস্বীকার করলো৷২০
(১৫:৩২) আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, “হে ইবলীস ! তোমার কি হলো, তুমি সিজদাকারীদের অন্তরভুক্ত হলে না ?”
(১৫:৩৩) সে জবাব দিল, “এমন একটি মানুষকে সিজদা করা আমার মনোপূত নয় যাকে তুমি শুকনো ঠন্‌ঠনে পচা মাটি থেকে সৃষ্টি করেছো৷”
(১৫:৩৪) আল্লাহ বললেন, “তবে তুমি বের হয়ে যাও এখান থেকে, কেননা তুমি ধিকৃত৷
(১৫:৩৫) আর এখন কর্মফল দিবস পর্যন্ত তোমার ওপর অভিসম্পাত ! ২১
(১৫:৩৬) সে আরয করলো, হে আমার রব ! যদি তাই হয়, তাহলে সেই দিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও যেদিন সকল মানুষকে পুনর্বার উঠানো হবে৷
(১৫:৩৭) বললেন, “ঠিক আছে, তোমাকে অবকাশ দেয়া হলো৷
(১৫:৩৮) সেদিন পর্যন্ত যার সময় আমার জানা আছে৷
(১৫:৩৯) সে বললো, “হে আমার রব! তুমি যেমন আমাকে বিপথগামী করলে ঠিক তেমনিভাবে আমি পৃথিবীতে এদের জন্য প্রলোভন সৃষ্টি করে এদের সবাইকে বিপথগামী করবো,২২
(১৫:৪০) তবে এদের মধ্য থেকে তোমার যেসব বান্দাকে তুমি নিজের জন্য নির্বাচিত করে নিয়েছো তাদের ছাড়া৷
(১৫:৪১) বললেন, এটিই আমার নিকট পৌঁছুবার সোজা পথ৷ ২৩
(১৫:৪২) অবশ্যি যারা আমার প্রকৃত বান্দা হবে তাদের ওপর তোমার কোনো জোর খাটবে না৷ তোমার জোর খাটবে শুধুমাত্র এমন বিপথগামীদের ওপর যারা তোমার অনুসরণ করবে ২৪
(১৫:৪৩) এবং তাদের সবার জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তির অংগীকার৷২৫
(১৫:৪৪) এ জাহান্নাম (ইবলীসের অনুসারীদের জন্য যার শাস্তির অংগীকার করা হয়েছে) সাতটি দরজা বিশিষ্ট৷ প্রত্যেকটি দরজার জন্য তাদের মধ্য থেকে একটি অংশ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে৷ ২৬
১৭. এখানে কুরআন পরিস্কার করে একথা বলে দিচ্ছে যে , মানুষ বির্বতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশুত্বের পর্যায় অতিক্রম করে মানবতার পর্যায়ে অতিক্রম করে মানবতার পর্যায়ে উন্নীত হয়নি ৷ ডারউইনের ক্রমবিবর্তনবাদে প্রভাবিত আধুনিক যুগের কুরআনের ব্যাখ্যাতাগণ একথা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন ৷ বরং কুরআন বলেছে , সরাসরি মৃত্তিকার উপাদান থেকে তার সৃষ্টি কর্ম শুরু হয় ৷ ( আরবী --------) ( শুকনো ঠনঠনে পচা মাটি ) শব্দাবলীর মাধ্যমে একথা ব্যক্ত করা হয়েছে ৷ ( আরবী --------) বলতে আরবী ভাষায় এমন ধরনের কালো কাদা মাটিকে বুঝায় যার মধ্যে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়ে গেছে , যাকে আমরা নিজেদের ভাষায় পংক বা পাঁক বলে থাকি অথবা অন্য কথায় বলা যায় , যা মাটির গোলা বা মণ্ড হয়ে গেছে ৷ ( আরবী -------------) শব্দের দুই অর্থ হয় ৷ একটি অর্থ , পরিবর্তিত , অর্থাৎ এমন পচা , যার মধ্যে পচন ধরার ফলে চকচকে ও তেলতেলে ভাব সৃষ্টি হয়ে গেছে ৷ আর দ্বিতীয় অর্থ , চিত্রিত ৷ অর্থাৎ যা একটা নির্দিষ্ট আকৃতি ও কাঠামোতে রূপান্তরিত হয়েছে ৷ ( আরবী ----------) বলা হয় এমন পচা কাদাকে যা শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠনঠনে করে বাজে ৷ এ শব্দাবলী থেকে পরিস্কার জানা যাচ্ছে যে , গাঁজানো কাদা মাটির গোলা বা মণ্ড থেকে প্রথমে একটি পুতুল বানানো হয় এবং পুতুলটি তৈরী হবার পর যখন শুকিয়ে যায় তখন তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দেয়া হয় ৷
১৮. (আরবী -----------) বলা হয় গরম বাতাসকে ৷ আর আগুনকে সামুমের সাথে সংযুক্ত করার ফলে এর অর্থ আগুনের পরিবর্তে হয় প্রখর উত্তাপ ৷ কুরআনের যেসব জায়গায় জিনকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এ আয়াত থেকে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা হয়ে যায় ৷ ( আরো বেশী জানার জন্য দেখুন সূরা আর রহমান , টীকা : ১৪-১৬)
১৯. এ থেকে জানা যায় , মানুষের মধ্যে যে রূহ ফুঁকে দেয়া হয় অর্থাৎ প্রাণ সঞ্চার করা হয় তা মূলত আল্লাহর গুণাবলীর একটি প্রতিচ্ছায়া ৷ জীবন , জ্ঞান , শক্তি , সামর্থ সংকল্প এবং অন্যান্য যতগুলো গুণ মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় , যেগুলোর সমষ্টির নাম প্রাণ ---- সেসবই আসলে আল্লাহরই গুণাবলীর একটি প্রতিচ্ছায়া ৷ মানুষের মাটির দেহ-কাঠামোটির ওপর এ প্রতিচ্ছায়া ফেলা হয় ৷ আর এ প্রতিচ্ছায়ার কারণেই মানুষ এ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং ফেরেশতাগণসহ পৃথিবীর যাবতীয় সৃষ্টি তাকে সিজদা করেছে ৷

আসলে তো সৃষ্টির মধ্যে যেসব গুণের সন্ধান পাওয়া যায় তার প্রত্যেকটিরই উৎস ও উৎপত্তিস্থল আল্লাহরই কোন না কোন গুণ ৷ যেমন হাদীসে বলা হয়েছে :

আরবী -------------------------------------------------------------------------------

"মহান আল্লাহ রহমতকে একশো ভাগ বিভক্ত করেছেন ৷ তারপর এর মধ্য থেকে ৯৯ টি অংশ নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন এবং মাত্র একটি অংশ পৃথিবীতে অবতীর্ণ করেছেন ৷ এই একটি মাত্র অংশের বরকতেই সমুদয় সৃষ্টি পরস্পরের প্রতি অনুগ্রহশীল হয় ৷ এমনকি যদি একটি প্রাণী তার নিজের সন্তান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ জন্য তার ওপর থেকে নিজের নখর উঠিয়ে নেয় তাহলে এটিও আসলে এ রহমত গুণের প্রভাবেরই ফলশ্রুতি ৷ " --- ( বুখারী ও মুসলিম )

কিন্তু আল্লাহর গুণাবলীর প্রতিচ্ছায়া যে ধরনের পূর্ণতার সাথে মানুষের ওপর ফেলা হয় অন্য কোন প্রাণীর ওপর তেমনভাবে ফেলা হয়নি ৷ এ জন্যই অন্যান্য সৃষ্টির ওপর মানুষের এ প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব ৷

এটি একটি সূক্ষ্ম বিষয় ৷ এটি অনুধাবন করার ক্ষেত্রে সামান্যতম ভ্রান্তি মানুষকে এমন বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দিতে পারে যার ফলে সে আল্লাহর গুণাবলীর একটি অংশ লাভ করাকে আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার কোন অংশ লাভ করার সমার্থক মনে করতে পারে ৷ অথচ আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার সামন্যতম অংশ লাভ করার কথাও কোন সৃষ্টির জন্য কল্পনাই করা যায় না ৷
২০. তুলনামূলক পর্যালোচনার জন্য সূরা বাকারার ৪ রুকূ' , সূরা নিসার ১৮ রুকূ ' এবং সূরা আরাফের ২ রুকূ' দেখুন ৷ তাছাড়া এসব জায়গায় আমি যে টীকাগুলো লিখেছি সেগুলোও একটু সামনে রাখলে ভাল হয় ৷
২১. অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত তুমি অভিশপ্ত থাকবে ৷ তারপর যখন প্রতিফল দিবস কায়েম হবে তখন তোমাকে তোমার নাফরমানির শাস্তি দেয়া হবে ৷
২২. অর্থাৎ যেভাবে তুমি এ নগণ্য ও হীন সৃষ্টিকে সিজ্‌দা করার হুকুম দিয়ে আমাকে তোমার হুকুম অমান্য করতে বাধ্য করেছো ঠিক তেমনিভাবে এ মানুষদের জন্য আমি দুনিয়াকে এমন চিত্তাকর্ষকও মনোমুগ্ধকর জিনিসে পরিণত করে দেবো যার ফলে তারা সবাই এর দ্বারা প্রতারিত হয়ে তোমার নাফরমানী করতে থাকবে ৷ অন্য কথায় , উবলীসের উদ্দেশ্য ছিল , সে পৃথিবীর জীবন এবং তার সুখ- আনন্দ ও ক্ষণস্থায়ী আরাম - আয়েশ ও ভোগ -বিলাসকে মানুষের জন্য এমন চমকপ্রদ ও সুদৃশ্য করে তুলবে যার ফলে সে খিলাফত ও তার দায়িত্বসমূহ এবং পরকালের জবাবদিহির কথা ভুলে যাবে , এমনকি আল্লাহকেও ভুলে যাবে অথবা স্মরণ রাখা সত্ত্বেও তাঁর বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করবে ৷
২৩. (আরবী ----------) বাক্যের দু'টি অর্থ হতে পারে ৷ একটি অর্থ আমি অনুবাদে অবলম্বন করেছি ৷ আর দ্বিতীয় অর্থটি হচ্ছে একথা ঠিক , আমি এটা মেনে চলবো ৷
২৪. এ বাক্যের দু'টি অর্থ হতে পারে ৷ একটি অর্থ আমি অনুবাদে অবলম্বন করেছি ৷ আর দ্বিতীয় অর্থটি হচ্ছে , আমার বান্দাদের ( অর্থাৎ সাধারণ মানুষদের ) ওপর তোমার কোন কর্তৃত্ব থাকবে না ৷ তুমি তাদেরকে জবরদস্তি নাফরমান বানাতে পারবে না ৷ তবে তারা নিজেরাই বিভ্রান্ত হবে এবং নিজেরাই তোমার অনুসরণ করতে চাইবে তাদেরকে তোমার পথে চলার জন্য ছেড়ে দেয়া হবে ৷ তোমার পথ থেকে তাদেরকে আমি জোর করে বিরত রাখার চেষ্টা করবো না ৷

প্রথম অর্থের দিক দিয়ে বক্তব্যের সার সংক্ষেপ হবে : বন্দেগীর পথই হচ্ছে আল্লাহর কাছে পৌঁছুবার সোজা পথ ৷ যারা এ পথ অবলম্বন করবে তাদের ওপর শয়তানের কোন কর্তৃত্ব চলবে না ৷ আল্লাহ তাদেরকে নিজের জন্য একান্তভাবে গ্রহণ করে নেবেন ৷ আর শয়তান নিজেও স্বীকৃতি দিচ্ছে যে , তারা তার ফাঁদে পা দেবে না ৷ তবে যারা নিজেরাই বন্দেগীর পথ থেকে সরে এসে নিজেদের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের পথ হারিয়ে ফেলবে তারা ইবলীসের শিকারে পরিণত হবে এবং ইবলীস তাদেরকে প্রভাবিত করে যেদিক নিয়ে যেতে চাইবে তারা তার পেছনে সেদিকেই বিভ্রান্তের মত ছুটে বেড়াতে বেড়াতে দূরে - বহু দূরে চলে যাবে ৷

দ্বিতীয় অর্থের দিক দিয়ে বক্তব্যের সার সংক্ষেপ হবে : মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তান তার যে কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করেছে তা হচ্ছে এই যে , সে পৃথিবীর জীবনকে মানুষের জন্য সুদৃশ্য ও সুশোভিত করে তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে গাফিল ও বন্দেগীর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে ৷ আল্লাহ তার এই কর্মপদ্ধতির স্বীকৃতি দিয়ে বলেন , এ শর্ত আমি মেনে নিয়েছি এবং এর আরো ব্যাখ্যা করে একথা সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে , তোমাকে কেবল মাত্র ধোঁকা দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে , তাদের হাত ধরে জোর করে নিজের পথে টেনে নিয়ে যাবার ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে না ৷ আল্লাহ তাঁর যেসব বান্দাকে নিজের একনিষ্ঠ বান্দা করে নিয়েছেন শয়তান তাদের নাম নিজের খাতায় রাখেনি ৷ এ থেকে এ ভুল ধারণা সৃষ্টি হচ্ছিল যে , সম্ভবত কোন যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই আল্লাহ ইচ্ছামতো যাকে চাইবেন নিজের একনিষ্ঠ বান্দা করে নেবেন এবং সে শয়তানের হাত থেকে বেঁচে যাবে ৷ আল্লাহ একথা বলে বিষয়টি পরিস্কার করে দিয়েছেন যে , যে ব্যক্তি নিজেই বিভ্রান্ত হবে সে - ই তোমার অনুসারী হবে ৷ অন্য কথায় , যে বিভ্রান্ত হবে না সে তোমার অনুসরণ করবে না এবং সেই হবে আমার বিশেষ বান্দা , যাকে আমি একান্ত করে নেব ৷
২৫. এখানে এ ঘটনাটি যে উদ্দেশ্যে বর্ণনা করা হয়েছে তা অনুধাবন করার জন্য পূর্বাপর আলোচনা পরিস্কারভাবে মনে রাখতে হবে ৷ প্রথম ও দ্বিতীয় রুকূ'র বিষয়বস্তু সম্পর্কে চিন্ত - ভাবনা করলে একটি কথা পরিস্কার বুঝতে পারা যায় ৷ সেটি হচ্ছে : এ বর্ণনা ধারায় আদম ও ইবলীসের এ কাহিনী বর্ণনা করার পেছনে একটি উদ্দেশ্য যে , তোমরা নিজেদের আদি শত্রু শয়তানের ফাঁদে পড়ে গেছো এবং সে নিজের হিংসা চরিতার্থ করার জন্য তোমাদের যে হীনতার গর্তে নামিয়ে দিতে চায় তোমরা তার মধ্যে তলিয়ে যাচ্ছো ৷ পক্ষান্তরে এ নবী তোমাদের এ ফাঁদ থেকে উদ্ধার করে উন্নতির সেই উচ্চ শিখরের দিকে নিয়ে যেতে চান যা আসলে মানুষে হিসেবে তোমাদের স্বাভাবিক অবস্থান স্থল ৷ কিন্তু তোমরা অদ্ভুত নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছো ৷ নিজেদের শত্রুকে বন্ধু এবং কল্যাণকামীকে তোমরা শত্রু মনে করছো ৷

এ সংগে এ সত্যটিও এ কাহিনীর মাধ্যমে তাদের সামনে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে যে , তোমাদের জন্য একটি মাত্র মুক্তির পথ রয়েছে এবং সেটি হচ্ছে আল্লাহর বন্দেগী করা ৷ এ পথ পরিহার করে তোমরা যে পথেই চলবে তা হবে শয়তানের পথ এবং সে পথটি চলে গেছে সোজা জাহান্নামের দিকে ৷

এ কাহিনীর মাধ্যমে তৃতীয় যে কথাটি বুঝানো হয়েছে তা হচ্ছে এই যে , তোমরা নিজেরাই নিজেদের এ ভুলের জন্য দায়ী ৷ শয়তানের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে এর বেশী আর কিছু নয় যে , সে দুনিয়ার বাহ্যিক জীবনোপকরণের সাহায্যে ধোঁকা দিয়ে তোমাদের আল্লাহর বন্দেগীর পথ তেক বিচ্যুত করার চেষ্টা করে ৷ তার ধোঁকায় পড়ে যাওয়া তোমাদের নিজেদের ত্রুটি ৷ এর কোন দায় - দায়িত্ব তোমাদের নিজেদের ছাড়া আর কারোর ওপর বর্তায় না ৷

(এ ব্যাপারে আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য সূরা ইবরাহীম ২২ আয়াত ও ৩১ টীকা দেখুন)
২৬. যেসব গোমরাহী ও গোনাহের পথ পাড়ি দিয়ে মানুষ নিজের জন্য জাহান্নামের পথের দরজা খুলে নেয় সেগুলোর প্রেক্ষিতে জাহান্নামের এ দরজাগুলো নির্ধারিত হয়েছে ৷ যেমন কেউ নাস্তিক্যবাদের পথ পাড়ি দিয়ে জাহান্নামের দিকে যায় ৷ কেউ যার শিরকের পথ পাড়ি দিয়ে , কেউ মুনাফিকীর পথ ধরে , কেউ প্রবৃত্তি পূজা , কেউ অশ্লীলতা ও ফাসেকী , কেউ জুলুম, নিপীড়ন ও নিগ্রহ , আবার কেউ ভ্রষ্টতার প্রচার ও কুফরীর প্রতিষ্ঠা এবং কেউ অশ্লীলতা ও নৈতিকতা বিরোধী কার্যকলাপের প্রচারের পথ ধরে জাহান্নামের দিকে যায় ৷