(১০২:১) বেশী বেশী এবং একে অপরের থেকে বেশী দুনিয়ার স্বার্থ লাভ করার মোহ তোমাদের গাফলতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে৷
(১০২:২) এমনকি ( এই চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে ) তোমরা কবর পর্যন্ত পৌঁছে যাও৷
(১০২:৩) কখখনো না , শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে ৷
(১০২:৪) আবার ( শুনে নাও ) কখখনো না শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে৷
(১০২:৫) কখখনো না , যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে ( এই আচরণের পরিণাম ) জানতে ( তাহলে তোমরা এ ধরনের কাজ করতে না৷ ) ৷
(১০২:৬) তোমরা জাহান্নাম দেখবেই ৷
(১০২:৭) আবার ( শুনে নাও) তোমরা একেবারে স্থির নিশ্চিতভাবে তা দেখবেই ৷  
(১০২:৮) তারপর অবশ্যই সেদিন তোমাদের এই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷
১. মূলে বলা হযেছে ( আরবী -----------------------) এখানে মাত্র দু'টি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ কিন্তু এই দু'টি শব্দের মধ্যে এত বেশী ব্যাপকতা রয়েছে যা মাত্র একটি বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব নয়৷

' আলহাকুম ' ( আরবী --------) শব্দটির মূলে রয়েছে লাহউন৷ ( আরবী -------) এর আসল অর্থ গাফলতি৷ কিন্তু যেসব কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আকর্ষণ এত বেশী বেড়ে যায় যে সে তার মধ্যে মগ্ন হয়ে অন্য অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থেকে গাফেল হয়ে পড়ে সেই ধরনের প্রত্যেকটি কাজের জন্য আরবী ভাষায় এ শব্দটি বলা হয়ে থাকে৷ আলহাকুম শব্দটিকে যখন এর মূল অর্থে বলা হবে তখন এর অর্থ হবে কোন ' লাহওয়া ' তোমাকে তার মধ্যে এমনভাবে মশগুল করে রেখেছে যে , তার চাইতে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কোন জিনিসের প্রতি আর তোমার আকর্ষণ ও আগ্রহ থাকেনি৷ তার মোহ তোমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে৷ তারি চিন্তায় তুমি নিমগ্ন ৷ আর এই মোহ ও নিমগ্নতা তোমাকে একেবারে গাফেল করে দিয়েছে৷

তাকাসুর ( আরবী --------) এর মূল কাসরাত ( আরবী -------------) ৷ এর তিনটি অর্থ হয়৷ এক , মানুষের বেশী বেশী প্রাচুর্য লাভ করার চেষ্টা করা ৷ দুই , প্রাচুর্য লাভ করার জন্য মানুষের পরস্পরের অগ্রবর্তী হওয়ার চেষ্টা করা৷ তিন , লোকদের অন্যের তুলনায় বেশী প্রাচুর্য লাভ করার কথা নিয়ে পরস্পরের মোকাবেলায় বড়াই করে বেড়ানো৷

কাজেই " আলহাকুমুত তাকাসুরের " অর্থ দাঁড়ায় তাকাসুর বা প্রাচুর্য তোমাদেরকে তা নিজের মধ্যে এমনভাবে মশগুল করে নিয়েছে , যার ফলে তার প্রতি মোহাচ্ছন্নতা তোমাদের তার চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থেকে গাফেল করে দিয়েছে ৷ ' তাকাসুরের মধ্যে কোন জিনিসের প্রাচুর্য রয়েছে , ' আলহাকুম ' এ কোন জিনিস থেকে গাফেল হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং আলহাকুম এ কাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে - এ বাক্যে সে কথা সুস্পষ্ট করে বলা হয়নি৷ অর্থের এই অস্পষ্টতার কারণে এই শব্দগুলো ব্যাপকতর অর্থে ব্যবহারের দুয়ার খুলে গেছে৷ এ ক্ষেত্রে ' তাকাসুর ' বা প্রাচুর্যের অর্থ সীমাবদ্ধ হয়ে থাকেনি৷ বরং দুনিয়ার সমস্ত সুবিধা ও লাভ , বিলাস দ্রব্য , ভোগের সামগ্রী , শক্তি ও কর্তৃত্বের উপকরণ বেশী বেশী অর্জন করার প্রচেষ্টা চালানো , এগুলো অর্জন করার জন্য একে অন্যের থেকে অগ্রবর্তী হবার চেষ্টা করা এবং এগুলোর প্রাচুর্যের কারণে পরস্পরের মোকাবেলায় বড়াই করা এর অর্থের অন্তরভুক্ত হয়ে গেছে৷ অনুরূপভাবে ' আলহাকুম ' - এ যাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে তারাও সীমাবদ্ধ হয়ে থাকেনি৷ বরং প্রত্যক যুগের লোকেরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে ও সামুগ্রিকভাবে এর সম্বোধনের আওতাভুক্ত হয়েছে৷ এর অর্থ দাঁড়ায় , বেশী বেশী বৈষয়িক স্বার্থ অর্জন করা , তার মধ্যে একে অন্যের অগ্রবর্তী হওয়া এবং অন্যের মোকাবেলায় তা নিয়ে গর্ব করার মোহ যেমন ব্যক্তিকে আচ্ছন্ন করে তেমনি আচ্ছন্ন করে গোত্র ও জাতিকেও৷ অনুরূপভাবে ' আলহাকুমুত তাকাসুর ' - এ যেহেতু একথা সুস্পষ্ট করে বলা হয়নি যে , প্রাচুর্য লোকদেরকে নিজের মধ্যে নিমগ্ন করে কোন জিনিস থেকে গাফেল করে দিয়েছে , তাই এর অর্থের মধ্যেও ব্যাপকতা সৃষ্টি হয়েছে৷ এর অর্থ হচ্ছে , এই প্রাচুর্যের মোহ লোকদেরকে এর চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যেকটি জিনিস থেকে গাফেল করে দিয়েছে৷ তারা আল্লাহ থেকে গাফেল হয়ে গেছে৷ আখেরাত থেকে গাফেল হয়ে গেছে৷ নৈতিকতার সীমা ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে গাফেল হয়ে গেছে৷ অধিকারীর অধিকার এবং তা আদায় করার ব্যাপারে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে গাফেল হয়ে গেছে ৷ তারা নিজেদের জীবন যাপনের মান উন্নয়নের চিন্তায় ব্যাকুল ৷ মানবতার মান কত নেমে যাচ্ছে সে চিন্তা তাদেরকে একটুও ব্যতিব্যস্ত করে না৷ তাদের চাই বেশী বেশী অর্থ ৷ কোন পথে এ অর্থ অর্জিত হচ্ছে তার কোন পরোয়াই তাদের নেই৷ তারা বিলাস দ্রব্য ও ভোগের সামগ্রী বেশী বেশী চায়৷ এই প্রবৃত্তি পূজার লিপ্ত হয়ে তারা এহেন আচরণের পরিণাম থেকে সম্পূর্ণ গাফেল হয়ে গেছে৷ তারা বেশী বেশী শক্তি , সেনাবাহিনী ও অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহের চিন্তায় মশগুল৷ এ প্রশ্নে তারা একে অপরের ডিঙ্গিয়ে যাবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ তারা এ চিন্তা করছে না যে , এগুলো আল্লাহর দুনিয়াকে জুলুমে পরিপূর্ণ করার এবং মানবতাকে ধবংস ও বরবাদ করার সরঞ্জাম মাত্র ৷ মোটকথা , এভাবে অসংখ্য ধরনের ' তাকাসুর ' ব্যক্তি ও জাতিদেরকে তার মধ্যে এমনভাবে মশগুল করে রেখেছে যে , দুনিয়া এবং বৈষয়িক স্বার্থ ও ভোগের চাইতে বড় কোন জিনিসের কথা তারা মুহূর্তকালের জন্য চিন্তা করে না৷
২. অর্থাৎ সারাটা জীবন তোমরা এই প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছো৷ মারার এক মুহূর্ত আগেও এ চিন্তা থেকে তোমাদের রেহাই নেই৷
৩. অর্থাৎ তোমরা ভুল ধারণার শিকার হয়েছো৷ বৈষয়িক সম্পদের এ প্রাচুর্য এবং এর মধ্যে পরস্পর থেকে অগ্রবর্তী হয়ে যাওয়াকেই তোমরা উন্নতি ও সাফল্য মনে করে নিয়েছো৷ অথচ এটা মোটেই উন্নতি ও সাফল্য নয় ৷ শীঘ্রই তোমরা এর অশুভ পরিণতি জানতে পারবে৷ সারাটা জীবন যে ভুলের মধ্যে তোমরা লিপ্ত ছিলে সেটা যে কত বড় ভুল ছিল তা তোমরা শীঘ্রই জানতে পাবে৷ শীঘ্রই অর্থ আখেরাতে ও হতে পারে৷ কারণ আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সমগ্রকাল ব্যাপী যে সত্তার দৃষ্টে প্রসারিত তাঁর কাছে কয়েক হাজার বা কয়েক লাখ বছর ও কালের সামান্য একটি অংশ মাত্র৷ কিন্তু এর অর্থ মৃত্যুও হতে পারে৷ কারণ কোন মানুষ থেকে তার অবস্থান বেশী দূরে নয়৷ আর মানুষ তার সারা জীবন যে সব কাজের মধ্যে কাটিয়ে এসেছে সে মরে যাবার সাথে সাথেই সেগুলো তার জন্য সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য ও অশুভ পরিণামের বাহন ছিল কিনা তা তার কাছে একেবারে সুষ্পষ্ট হয়ে যাবে৷
৪. এই বাক্যে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এই অর্থে ' তারপর ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি৷ বরং এর অর্থ হচ্ছে : তারপর এ খবরটিও আমি তোমাদের দিয়ে দিচ্ছি যে , এসব নিয়ামত সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ৷ আর একথা সুষ্পষ্ট , আল্লাহর আদালতে হিসেব নেবার সময় এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷ এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে এই যে , বিভিন্ন হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে , তিনি বলেছেন , মহান আল্লাহ বান্দাদেরকে যেসব নিয়ামত দান করেছেন সে সম্পর্কে মু'মিন ও কাফের সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে৷ এটা আলাদা ব্যাপার যারা নিয়ামত অস্বীকার করেনি এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে জীবন যাপন করেছে তারা এই জিজ্ঞাসাবাদে সফলকাম হবে৷ আর যারা আল্লাহর নিয়ামতের হক আদায় করেনি এবং নিজেদের কথা ও কাজের মাধ্যমে অথবা উভয়ের সাহায্যে তাঁর নাফরমানি করেছে তার ব্যর্থ হবে৷

হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ ( রা) রেওয়ায়াত করেছেন , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এখানে এলেন ৷ আমার তাঁকে তাজা খেজুর খাওয়ালাম এবং ঠাণ্ডা পানি পান করালাম৷ তিনি বললেন : " এগুলো এমন সব নিয়ামতের অন্তরভুক্ত যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷ " ( মুসনাদে আহমাদ , নাসাঈ , ইবনে জারীর , ইবনুল মুনযির , ইবনে মারদুইয়া , আবদ ইবনে হুমাইদ ও বাইহাকী ফিশ্‌ শু' আব )৷

হযরত আবু হুরাইরাহ ( রা) থেকে বর্নিত ৷ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু বকর (রা)ও হযরত উমরকে ( রা) বললেন , চলো আবুল হাইসাম ইবনুত তাইহান আনসারীর ওখানে যাই৷ কাজেই তাদেরকে নিয়ে তিনি ইবনুত তাইহানের খেজুর বাগানে গেলেন৷ তিনি এক কাঁদি খেজুর এনে মেহমানদের সামনে রাখলেন৷ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন ; তুমি নিজে খেজুর ছিঁড়ে আনলে না কেন ? তিনি বললেন আমি চাচ্ছিলাম আপনারা নিজেরা বেছে বেছে খেজুর খাবেন৷ কাজেই তারা খেজুর খেলেন এবং ঠাণ্ডা পানি পান করলেন ৷ খাওয়া দাওয়া শেষ করে রসূলুল্লাহ ( সা) বলেন " সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ সমর্পিত , কিয়ামতের দিন যেসব নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এই ঠাণ্ডা ছায়া , ঠাণ্ডা খেজুর ও ঠাণ্ডা পানি -- এগুলো তার অন্তরভুক্ত৷ " ( এই ঘটনা মুসলিম , ইবনে মাজাহ , আবু দাউদ , তিরমিযী , নাসায়ী , ইবনে জারীর ও আবুল ইয়ালা প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বিভিন্ন সূত্রে আবু হুরাইরাহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন৷ এদের কেউ কেউ উক্ত আনসার সাহাবীর নাম উল্লেখ করেছেন আবার কেউ কেউ শুধুমাত্র একজন আনসারী বলেই ক্ষ্যান্ত হয়েছেন৷ এ ঘটনাটি বিভিন্ন সূত্রে এবং বিস্তারিত আকারে ইবনে আবু হাতেম হযরত উমর থেকে এবং ইমাম আহমাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবু আসী নামক একজন মুক্তি প্রাপ্ত গোলাম থেকে উদ্ধৃত করেছেন৷ ইবনে হাইয়ান ও ইবনে মারদুইয়া হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে একটি রেওয়ায়ত উদ্ধৃত করেছেন৷ তা থেকে জানা যায় , প্রায় এ একই ধরনের ঘটনা হযরত আবু আইউব আনসারীর ওখানে ও ঘটেছিল৷ )

এই হাদীসগুলো থেকে একথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে , জিজ্ঞাসাবাদ কেবল কাফেরদেরকে করা হবে না , সৎ মু'মিনদেরকেও করা হবে৷ আর আল্লাহ মানুষকে যে নিয়মাতগুলো দান করেছেন সেগুলো সীমা সংখ্যাহীন৷ সেগুলো গণনা করা সম্ভব নয়৷ বরং এমন অনেক নিয়মাতও আছে যেগুলোর মানুষ কোন খবরই রাখে না৷ কুরআন মজীদে বলা হয়েছে ( আরবী -----------) অর্থাৎ " যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামতগুলো গণনা করতে থাকো তাহলে সেগুলো পুরোপুরি গণনা করতেও পারবে না৷ " ( ইবরাহীম ৩৪ আয়াত ) এই নিয়ামতগুলোর মধ্য থেকে অসংখ্য নিয়ামত মহান আল্লাহ সরাসরি মানুষকে দিয়েছেন৷ আবার বিপুল সংখ্যক নিয়ামত মানুষকে দান করা হয় তার নিজের উপার্জনের মাধ্যমে৷ নিজের উপার্জিত নিয়ামতগুলো মানুষ কিভাবে উপার্জন ও ব্যয় করেছে সে সম্পর্কে তাকে জবাবদিহি করতে হবে৷ আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি যে নিয়ামতগুলো সে লাভ করছে সেগুলোকে সে কিভাবে ব্যবহার করছে তার হিসেব তাকে দিতে হবে ৷ আর সামগ্রিকভাবে সমস্ত নিয়ামত সম্পর্কে তাকে বলতে হবে যে , সেগুলো যে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এর স্বীকৃতি সে দিয়েছিল কিনা এবং নিজের ইচ্ছা ,মনোভাব ও কর্মের সাহায্যে সেগুলোর জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল কি না ? অথবা সে কি একথা মনে করতো , এ সবকিছু হঠাৎ ঘটনাক্রমেই সে পেয়ে গেছে ? অথবা সে কি একথা মনে করেছিল যে , অনেকগুলো খোদা তাকে এগুলো দিয়েছেন ? অথবা সে কি একথা মনে করেছিল যে, এগুলো একজন আল্লাহই নিয়ামত ঠিকই কিন্তু এগুলো দান করার ব্যাপারে আরো অনেক সত্তার হাত রয়েছে ? এ কারণে তাদেরকে মাবুদ গণ্য করেছিল এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল ?