তাফহীমুল কুরআন : একটি বিপ্লবী তাফসির - দ্বিতীয় পর্ব
মূলঃ প্রফেসর খুরশীদ আহমদ, অনুবাদঃ সাইয়েদ রাফে সামনান

তাফসির সাহিত্যের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব
এমত পরিস্থিতিতে তাজদীদে দীনের দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত আলস্নাহর নেক বান্দাহগণ চেষ্টা করেছেন কুরআনের জ্ঞান ও আমলকে তার প্রকৃত রাজপথে ফিরিয়ে আনবার। তাদের প্রচেষ্টা এবং সাধনার মূল লক্ষ্য ছিল কুরআন প্রদর্শিত জীবনের রাজপথকে আবার পরিষ্কার করা, আলোকিত করা-অতঃপর গোমরাহীতে নিমজ্জিত চিন্তা এবং কর্মের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের আলো জ্বেলে তার সংশোধন করা এবং পরিমার্জন করা।
ইসলামী চিন্তা ও দর্শনে তাফসির সাহিত্যের উপরোক্ত গুরুত্ব স্বীকৃত। এরই আলোকে আমরা মনে করি তাফসির সাহিত্য হচ্ছে মুসলিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেধা শক্তির চমৎকার প্রতিফলন এবং এই জাতির পুরো ইতিহাস তাফসির সাহিত্যের আলোকে দেখা যেতে পারে।

হিমালিয়ান উপমহাদেশে তাফসির সাহিত্য
এই হিমালিয়ান উপমহাদেশে দারসে কুরআন এবং তাফসির সাহিত্যের ইতিহাস সহস্রাধিক বছরের প্রাচীন ইতিবৃত্ত। ২৭০ হিজরী সনে আবদুলস্নাহ বিন উমর ইবনে আবদুল আযীয সাহেবে মানসুর একজন ইরাকী বংশোদ্ভূত সিন্ধী আলেমকে দিয়ে সর্বপ্রথম তাফসির সাহিত্য রচনা করান। ঐ আলেমের জন্ম ও শিক্ষা দীক্ষা হয়েছিলো বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ এলাকাতে। গজনভী আমলে রাজপুতনা এবং পাঞ্জাব ছিল ইসলামী দাওয়াত ও তাবলীগের কেন্দ্রভূমি। এসময়ের ওলামায়ে তাফসিরের মধ্যে সাইয়েদ মুহাম্মদ ইসমাইল বুখারীর নাম উলেস্নখ যোগ্য।প্রথম পূর্ণাঙ্গ তাফসির রচিত হয় হোসাইন শাফেয়ী কর্তৃক। তিনি নিযাম নিশাপুরী রহ. দৌলতাবাদী নামে সমধিক পরিচিত। ৭২৮-৭৩০ হিজরী সনের মধ্যে রচিত এই তাফসির পরবর্তী সময়ে ইরান হতে প্রকাশিত হয় (গারায়েবুল কুরআন, তেহরান,১২৮০ হি. )। এরপর হতে আজতক আরবী, ফারসী, ইংরেজী, উর্দু, বাংলা, সিন্ধি, পশতু ও অন্যান্য পাক ভারতীয় ভাষায় বেশুমার তাফসির সাহিত্য রচিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এই সিলসিলা আগামীতেও চলতে থাকবে। এই তাফসিরসমূহ সেভাবেই রচিত হয়েছে যেভাবে অন্যান্য মুসলিম দেশে দেশে তাফসির রচিত হয়েছে।

এই তাফসিরসমূহের মধ্যে একটি বিশাল অংশ আসরী তাফসির। আসরী তাফসিরের বৈশিষ্ট্য হলো এর ব্যাখ্যা বিশেস্নষণ হাদীসে নববী সা. ও আসারে সাহাবায়ে কেরামের আলোকে করবার চেষ্টা করা হয়। অভিধান এজাজে কুরআন তথা মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বিশেষত্ব এবং কুরআনের সাহিত্যিক কারুকার্য তুলে ধরবার জন্যও বেশ কিছু তাফসির রচিত হয়েছে।

তাফসির সাহিত্যের অন্য একটি শাখা হলো কালামী তাফসির। কালামী তাফসিরে সমকালীন সমস্যাসমূহের যুগোপযোগী বিশেস্নষণ পাওয়া যায় এবং বিশেষভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিভাষাগত দিক হতে কুরআনী শিক্ষার হেকমত বর্ণনা করা হয়, আপত্তিসমূহের জবাব দেয়া এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। একইভাবে ফিকহী মাসায়েলের আলোচনা করতে গিয়ে ফিকহী তাফসির রচিত হয়েছে। সুফীগণ এখানে রচনা করেছেন সুফী তাফসির। এই উপমহাদেশে তাফসির সাহিত্যের প্রতিটি দিক এবং বিভাগে মোটামুটি কাজ হয়েছে।

উর্দু ভাষায় তাফসির সাহিত্যের চর্চা শাহ ওয়ালিউল্লাহ মোহাদ্দেসে দেহলভী রহ. এর খান্দানের মাধ্যমেই শুরু হয়। তার দুজন সুযোগ্য পুত্র সর্বপ্রথম উর্দু ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেন। এটা যে কোন ভারতীয় ভাষায় কুরআন অনুবাদের প্রথম পদক্ষেপ। অনুবাদ বা ভাষান্তর বা তরজমা যাই বলি সেটা হলো তাফসির সাহিত্য রচনার প্রথম পদক্ষেপ। শাহ আবদুল কাদের রহ. বিন শাহ ওয়ালিউলস্নাহ কৃত তরজমা ও ব্যাখ্যা মাওদাহুল কুরআন নামে প্রকাশিত হয়, যা আজও আমাদের মাঝে আছে। জ্ঞানপিপাসু মানুষ এই বর্তমান কালেও সেটা থেকে উপকৃত হচ্ছেন। তদীয় ভ্রাতা শাহ রাফীউদ্দিন রহ. কৃত তরজমাও তাফসিরে কুরআনের জগতে একটি মাইলফলক হয়ে আছে। একই সময়ে হাকীম মুহাম্মদ শরীফ খান ১২২২হি. ) কৃত তরজমা ও ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রফেসর হামেদ হোসেন কাদেরীর মতে শেষোক্ত তরজমাটি উর্দু ভাষায় কুরআনের প্রথম তরজমা। (সূত্র: উর্দু সাহিত্যের ইতিহাস ২য় খন্ড, প্রকাশকাল ১৯৫৭ খৃ: )

ওসব ছিল প্রাথমিক প্রচেষ্টা। এরপর থেকে তরজমা এবং তাফসিরের এক ক্রমাগত ধারা চলতে শুরু করেছে যা আজ অবধি চলছে। এক্ষেত্রে আল্লাহর হাজার হাজার বান্দা তাদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে কুরআনের পয়গামের ব্যাখ্যা বিশেস্নষণের চেষ্টা করেছেন। উর্দু ভাষার বেশীর ভাগ তাফসির সাহিত্য গতানুগতিক তাফসির ধারায় রচিত হয়েছে। কিছু তাফসিরকার কোন একটি বিশেষ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাফসির রচনা করেছেন। কিছু তাফসির আছে জামে তাফসীর (অভিধানিক ঐতিহাসিক, কালামী, ফিকহীও বুদ্ধিবৃত্তিক)। যেখানে সবকিছু একীভূত করা হয়েছে। তাফসির সাহিত্যের এইসব জ্ঞান গবেষণারকারীর উপর নজর বুলিয়ে আসুন এবার আমরা তাফহীমের উপরে দৃষ্টি দেই। আলহামদুলিলস্নাহ। তাফহীমুল কুরআন রচনা সমাপ্ত হয়েছে পরিপূর্ণতার সাথে। এই তাফসির গ্রন্থে সমগ্র কুরআন মজিদের ব্যাখ্যা বিশেস্নষণ করা হয়েছে। তদুপরি এই গ্রন্থে কুরআন বোঝা এবং অনুধাবনের যে পথ দেখানো হয়েছে তা অধ্যয়ন কালে কুরআন পাঠককে এক মুহূর্তের জন্যও কুরআনের মূলবাণীর সঙ্গছাড়া করে না।

তাফহীমুল কুরআন এবং উপমহাদেশের মুসলিম জীবনের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ১৯২৫-২৬ সালেই মাওলানা মওদূদী রহ. সংশোধন ও রেনেসাঁর কাজের সূচনা করেন। খেলাফত আন্দোলনের বাহ্যিক ব্যর্থতা এবং তার সৃষ্ট মানসিক, সামাজিক, চারিত্রিক ও রাজনৈতিক সংকটসমূহ মাওলানা মুহতারামকে সেই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলো যার প্রয়োজন তদানীন্তন ভারতবর্ষে আরও অনেকে অনুভব করেছিলেন বটে তবে তারা এই কাজের পথে উত্থিত সমস্যা ও সংকট মোকাবিলায় দ্বিধান্বিত ছিলেন অর্থাৎ অগ্রসর হয়ে কাজটি করবার সাহস করেননি। অনেকে সমগ্র জাতিকে এ কাজের জন্য ডাক দিয়েছেন। একাজের জন্য দামামা বাজিয়ে হাতে তলোয়ার তুলে নিয়ে সেই তলোয়ারে চুমো দিয়ে আবার তাকখানায় সাজিয়ে রেখে দিয়েছেন।

এমত পরিস্থিতিতে একজন বলিষ্ঠ ঈমানের অধিকারী নওজোয়ান এ তরণীর কান্ডারী বহনের মহাভার নিজ কাঁধে তুলে নিলেন। ‘আল জিহাদ ফিল ইসলাম’- বইটির জন্য গবেষণা’ অধ্যয়ন ও চিন্তা ভাবনা তাকে এ কাজের পথে জাগিয়ে তোলে। ১৯২৮ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত সময় পার হলো চিন্তা ভাবনা অধ্যয়ন, গবেষণা করে সর্বোপরি সিদ্ধান্ত নিতে। এসময় তার অবস্থা ছিলো এই ছত্রের মত:
ইসী কাশমাকাশ মে গুজরে মেরী যিন্দেগী কি রাতে,
কাভী সোজ সাজ রূমী কাভী বেচ তাব রাযী।

১৯৩২ সালে তিনি সম্পূর্ণ একনিষ্ঠ হয়ে নিজের কাজের লক্ষ্য ও চলবার পথ নির্ধারণ করে নেন। অতঃপর ১৯৩৩ সাল হতে সাময়িকীপত্র তরজুমানুল কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের বিপ্ল¬বী বাণীর দাওয়াত পেশ করার সূচনা করেন। তার দাওয়াতের সূচনা হয়েছিলো কুরআনের মাধ্যমে এবং এর মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যবিন্দু ছিল আল কুরআন।
মাওলানা মওদূদী রহ. এর সম্পাদনায় তরজুমানুল কুরআনের প্রকাশনা শুরু হলে এর প্রথম সংখ্যায় তিনি লিখেন:
‘‘এই সাময়িকীপত্রটি আজ যে অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, তা অত্যন্ত কঠিন ও বিপদসংকুল। কঠিন এবং বিপদ সংকুল শুধুমাত্র এ জন্যই নয় যে, এর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ বরং আজ যে হাতগুলো এই পত্রটির মহাভার তুলে নিচ্ছে তা পূর্বের ভারবাহী হাতগুলোর তুলনায় অনেক দুর্বল একদিকে এই দুর্বলতা ও অক্ষমতা অন্যদিকে প্রার্থিত কাজ হলো ইসলামকে তার প্রকৃত আলোকে পেশ করতে হবে, যে আলোকে কুরআনে হাকীম তাকে পেশ করেছে। কাজটি সহজ মনে হয় কিন্তু বাস্তবতা ভিন্নরূপ-নবুওতের দিনগুলোর পরে, সঠিক ইলমের অভাব, কুসংস্কার গ্রীক দর্শনের আগ্রাসন, পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুসরণ সর্বোপরি স্ববিরোধিতা এবং প্রবৃত্তির অন্ধ অনুসরণ আমাদের ও কুরআন বুঝার মধ্যে এমন এমন পর্দা ঝুলিয়ে দিয়েছে যে, যে কুরআন আমাদের জন্য সহজ ও বোধগম্য করা হয়েছিলো তা আজ দুর্বোধ্য হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কুরআন মজিদকে তার প্রকৃতরূপে পেশ করা নিংসন্দেহ একটি সুকঠিন কাজ।’’

এই সুকঠিন কাজটিরই সূচনা করলেন কুরআনের এই আশিক। মাওলানা মওদূদী রহ. এর নিজ লেখনীতে পবিত্র কুরআনের শিক্ষার আলোকে প্রায় ৮০ টি পুস্তক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিরোনামায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এমন মনে হয় যেন প্রাথমিক আট-দশ বছরেই মওলানা মওদূদী রহ. অনুভব করে নিয়েছিলেন যে তার পুস্তকসমূহ দ্বারা তিনি অতি উত্তম উপায়ে আল কুরআনের বিপ্ল¬বী দাওয়াত পেশ করছেন ও করবেন; তথাপি মুসলিম উম্মাহকে কুরআন প্রদর্শিত প্রকৃত দীনের দিকে নিয়ে আসা, এবং এই দীনের আলোকে মুসলিম জাতিকে কল্যাণের দিকে আহবান আমর বিল মারুফ ওয়া নাহিয়া আনিল মুনকার-এই ধারণার উপর তাদের বিবেককে জাগ্রত করবার জন্য কুরআনের সাথে তাদের সম্পর্ক এমনভাবে জুড়ে দেয়া প্রয়োজন যেন কুরআন বর্তমান মুসলিম উম্মাহর জীবনের সংবিধান বনে যায় এবং জাতির বিশ্বজনীন দাওয়াতের মেনিফেস্টো বা ইশতেহার হয়ে যায়। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য খোদ কুরআনকেই ভিত্তিমূল বানাতে হবে এবং সামগ্রিকভাবে মুসলিম জাতির মধ্যে কুরআনের প্রকৃত বুঝ সৃষ্টি করতে হবে। এই চিন্তাধারা সম্ভবত শাহ ওয়ালিউলস্নাহ (রহ. ) পরে তখন জাগ্রত হয়েছিল যখন তিনি কুরআন মজিদের ফারসী তরজমা করবার বিপস্নবী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং যার ফলে উপমহাদেশে মুসলিম জাতির জীবনের মোড় পরিবর্তনের ঐতিহাসিক কাজটি সম্পন্ন হয়। শাহ ওয়ালিউলস্নাহ (রহ. ) কুরআনের সাথে জাতির সম্পর্ক জাগ্রত করবার সাথে সাথে জীবনের সামগ্রিক ইসলামী দর্শনকে তদীয় বিখ্যাত গ্রন্থ হুজ্জাতুলস্নাহিল বালেগাতে পেশ করেছেন। হুজ্জাতুল্লহিল বালেগা হচ্ছে কুরআনের বাণীর আলোকে লিখিত হাদীসের এক অনুপম সংকলন গ্রন্থ। ইতিহাসের একজন ছাত্র হিসেবে আমি মনে করি দীনের তাজদীদের ক্ষেত্রে শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রহ. ) এর কুরআনের ফারসী অনুবাদ ও হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগার যে মর্যাদা মাওলানা মওদূদী (রহ. ) এর তাফহীমুল কুরআনের মোটামুটি একই মর্যাদা দেয়া যেতে পারে। কারণ তাফহীমুল কুরআনে কুরআন অনুবাদের একটি আধুনিক নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে এবং কুরআনের দাওয়াতকে কুরআনের মাধ্যমেই পেশ করা হয়েছে ও বর্ণনা করা হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ হতে তাফহীমুল কুরআন মওলানা মওদূদী রহ. এর পুরো জীবনের গবেষণা, সাধনা ও অধ্যবসায় এর রূপই নয় বরং মুসলিম উম্মাহর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন ও পুনঃ নির্মাণের একটি আকর গ্রন্থও বটে।

ইসলামী আন্দোলনের সাথে রয়েছে তাফহীমুল কুরআনের নিবিড় সম্পর্ক। এমন একটি সত্যনিষ্ঠ দলের প্রয়োজনীয়তা ও গঠনের কাজ যে দল তথা সংগঠনের দায়িত্ব হবে ইসলামী বিপস্নব সাধনে সচেষ্ট থাকা। তা গঠনের কাজ মাওলানা মোটামুটি ১৯৩৮ সালেই শুরু করে দিয়েছিলেন। আমি মনে করি দল গঠনের ঊষালগ্নে আন্দোলনের দারুল ইসলামের দিনগুলোতেই মাওলানা মওদূদী রহ. গভীরভাবে অনুভব করেন যে এই সত্যনিষ্ঠ দলটির প্রশিক্ষণের মূল কোর্স রয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের মাঝেই। এ বিষয়ে তিনি নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্ত্তত করে ফেলেন। এই যুগেই তিনি মানসিকভাবে তাফহীমুল কুরআন রচনা করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে ফেলেন। এই সংগঠনটি যখন সংগঠিত হওয়া শুরু করে তখন একেবারে প্রথম দিন হতেই দারসে কুরআনের আয়োজন করা হয়। এটাই হলো সেই দারসে কুরআন যা ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তাফহীমুল কুরআন নামে পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশিত হয়। এইভাবে বা পদ্ধতিতে নতুন একজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে যে কোর্স কেন্দ্রীয় নেতা ও কর্মীদের তৈরী করেছিল ও কিছু পাঠক দ্বারা পঠিত হচ্ছিল তা সমস্ত জাতি তথা উম্মাহের জন্য সংরক্ষিত হয়ে গেল।

উপরের কথাবার্তা এবং আলোচনার উপর গভীর দৃষ্টিপাত করলে তাফহীমুল কুরআনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব পরিষ্কার হয়ে যায়। এটা সেই তাফসীর গ্রন্থ যা কিনা এ উপমহাদেশের মুসলমানদের এক কঠিন ও সিদ্ধান্তর যুগে তমসাচ্ছন্ন জাতির উপর কুরআনের ছায়া দিয়ে এক নীরব বিপস্নব করে গেছে। .......... সেই বিপস্নবী যুগ আজও শেষ হয়নি। দিকে দিকে আজও জলে উঠেছে দীনই ইসলামী লাল মশাল।