তাফহীমুল কুরআন : একটি বিপ্লবী তাফসির - প্রথম পর্ব
মূলঃ প্রফেসর খুরশীদ আহমদ, অনুবাদঃ সাইয়েদ রাফে সামনান

তাফহীমুল কুরআনের সাথে আমার সম্পর্কটা এমন যেমন সম্পর্ক একজন ওস্তাদ এবং সাগরিদের মধ্যে হয়ে থাকে, কিংবা একজন পথিকের সাথে হয় পথ প্রদর্শকের। আমি ছত্রে ছত্রে এই তাফসির অধ্যয়ন করেছি, প্রতিটি লাইন মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আমার চিন্তায় আমার কর্মে তাফহীম আমার আঙ্গুল ধরে রাহবরী করেছে। এমন একটি গ্রন্থের ব্যাপারে এমন এক ব্যক্তি যা কিছুই বলুক বা কামনা করুক না কেন তার সাথে পরিভাষিক সমালোচনা বা আলোচনার কোন সম্পর্ক নেই। যেভাবে একজন ব্যক্তি নিজের কথা নিজে লিখতে পারে না অথবা লিখতে গেলে হয়ে যায় স্বগতোক্তি; তাই আমি বলবো আমিও এই তাফসির গ্রন্থের ব্যাপারে প্রথাগত সমালোচক হতে পারিনি, যার সাহায্যে আমি চিন্তা করবার পদ্ধতিগুলো শিখেছি। যে তাফসির আমার জীবনের ধারাকে পাল্টে দিয়ে নতুন পথে মূলধারার সাথে মিলিত হয়ে পথ চলতে সিদ্ধান্তকর ভূমিকা পালন করেছে।

সূচনাভাগের নিবেদনের সাথে সাথে আমি এটাও বলতে চাই বরং জোরের সাথেই বলছি একজন ওস্তাদের সঠিক নিরীক্ষক, পর্যালোচক এবং মূল্যায়নকারী তার ছাত্রই হতে পারে, বরং হয়েও থাকে। এভাবে হয়তো আমিও সেই অসংখ্য ছাত্রদের মধ্যে একজন যাদের জীবনে এই তাফসির বিপ¬বের জোয়ার আনার মাধ্যম হয়েছিলো। যদি এর মূল্যায়ন করি এর গুরুত্ব, প্রভাব ও মর্যাদার বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করি তাহলে সেটা নিরর্থক হবে না। অতঃপর সাগরিদ যদি জীবনে কোনো না কোনো পর্যায়ে গিয়ে অথবা জীবনের অন্যান্য পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন ‘ওস্তাদদের’ সংস্পর্শে এসে থাকে; এবং একজন একনিষ্ঠ ছাত্র হিসেবে সে যদি নিষ্ঠা ও আমত্মরিকতার সাথে ওস্তাদের মর্যাদা ও অবস্থান বিশে¬ষণ করবার যোগ্যতা অর্জন করে থাকে, তাহলে সাগরিদের সাক্ষ্য দ্বারা ওস্তাদের মর্যাদা অনুধাবন করতে কিছু না কিছু সাহায্য তো মিলতে পারে। আজ এখানে এমনি এক ছাত্র তার ওস্তাদের ব্যাপারে কথা বলছে এবং বে-এখতিয়ার এসব কথা বলতে অনেকটা বাধ্য হচ্ছে।

তাফসির সাহিত্য ইসলামী চিন্তাধারার প্রথম নয়ন
মুসলিম জাতির জীবন পবিত্র কুরআনের বন্ধনে আবদ্ধ। মুসলিম জাতির উন্মেষ ঘটিয়েছে এই কুরআন, তার উত্থান ক্রমবিকাশ এবং উন্নতির শিখরে আরোহণে ও চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে কুরআন। মুসলিম উম্মাহর কিশতী চালানোর চালিকা শক্তি যেমন রয়েছে কুরআনে তেমনি আছে দাড়ি হাতে সারি গানের কান্ডারী। এই কুরআন উম্মাহর বিশেষ মেজাজের ধারক হয়েছে এবং এই কিতাবই তাকে প্রত্যেক যুগে প্রতি পদক্ষেপে যাবতীয় সমস্যার আবর্ত হতে বের হয়ে আসতে শিখিয়েছে। কুরআন মুসলিম জাতির জন্য শুধুই একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং এ কুরআন এ জাতির জীবনের প্রাণ শক্তি। কুরআনের মর্যাদা এ জাতির অন্তরে অন্তরাত্মার মত, এ যেন হৃদপিন্ড অথবা হৃদয়ের প্রাণস্পন্দন। যতক্ষণ কুরআন, সক্রিয় আছে, জাতি আছে জীবন্ত । কুরআন ছাড়া এই মুসলিম জাতির জীবিত থাকার কোন সম্ভাবনা নেই।

পবিত্র কুরআনের এই মৌলিক গুরুত্ব আরও একটি বিষয় আমাদের সামনে পরিষ্কার করে দেয়। তাহলো প্রত্যেক যুগে মুসলমানদের সর্বোৎকৃষ্ট বুদ্ধিমত্তা এবং মেধা শক্তি এই কিতাবকে বুঝাবার জন্য এবং বর্ণনা করবার দাবী পূরণের জন্য কেন ব্যয়িত হলো। মুসলিম মনীষী এবং জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিগণের জ্ঞানার্জনের আকাঙ্ক্ষা ও জ্ঞান চর্চার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল কুরআনের মর্মকথা অনুধাবন এবং তাফসির সাহিত্য রচনা। এদিক থেকে বিবেচনা করলে মুসলিম মানসে চিন্তার প্রথম নয়ন তাফসির সাহিত্য রচনা। তাফসির সাহিত্য অবদানের বিষয় বিবেচনা করতে গেলে প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক এলাকাতে এক্ষেত্রে কীর্তিমান গুণীজনের সাক্ষাৎ মিলবে। ইসলামের ইতিহাসে যত চেষ্টা সাধনা এবং গবেষণা তাফসীর সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অন্য কোন ক্ষেত্রে হয়নি। পবিত্র কুরআনের সম্পর্ক জীবনের প্রতিটি বিষয়ে এজন্য পবিত্র কুরআনের তাফসির ইসলামী চিন্তাধারার আকর। তাফসির সাহহেত্যর মধ্যে চিন্তার গভীরতা, বিশালতা এবং ব্যাপকতার সমন্বিত সমাবেশ লক্ষ করা যায়। পবিত্র কুরআনের তাফসির রচনা মুসলিম জাতির এমন এক অনন্য জ্ঞান চর্চার মনুমেন্ট যা বিশ্বের অন্য কোন জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে পাওয়া যায় না।

কেবলমাত্র আরবী ভাষাতেই বারশতাধিক প্রকাশিত কুরআনের তাফসির পাওয়া যায়; অন্যদিকে অপ্রকাশিত তাফসির যে কত হবে তা শুমার করা অসম্ভব। উর্দুভাষায় আড়াইশত পরিপূর্ণ সমাপ্ত তরজমা ও তাফসীর পাওয়া যায় এবং সাড়ে তিন শত অসম্পূর্ণ তরজমা ও তাফসির বিদ্যমান। পৃথিবীতে এমন কোন ভাষা নেই যে ভাষাভাষীদের মাঝে মুসলমান থাকবার পরও তাদের সাহিত্য তাফসিরে কুরআন হতে বঞ্চিত। তাফসিরে কুরআনের সূচনা হয়েছিল কুরআন নাযিলের অব্যবহিত পর থেকেই। আল¬vহ তায়ালা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করবার নির্দেশ দিয়েছেন তা দু’টি বিষয়ে সীমাবদ্ধ।

এক: কিতাবুল¬vহ অর্থাৎ কুরআন এবং
দুই : রাসূলুল¬vহ সাল¬vল¬vহু আলাইহি ওয়া সাল¬vম, যার মহান সত্তার উপর আসমানী কিতাব আল-কুরআন নাযিল হয়েছে।
হেদায়েত ও পথ প্রদর্শনের এই চিরায়ত পদ্ধতি হযরত আদম আঃ থেকে শুরু করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল¬vল¬vহু আলাইহি ওয়া সাল¬vম পর্যন্ত চলেছে। এই খোদায়ী পদ্ধতি মোতাবেক নবী করীম সা. মানবজাতিকে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পথ প্রদর্শন করেছেন তা নিম্নরূপ : ক. আয়াতসমূহ তেলাওয়াত : অর্থাৎ কুরআন পাক যেভাবে তার সা. উপর অবতীর্ণ হয়েছে তা আল¬vহর বান্দাহগণকে শুনানো এবং অহীকে তার অবিকল অবিকৃতরূপে মানবজাতির নিকট পৌঁছানো।
খ. হুকুমসমূহ তামিল : আল¬vহ প্রদত্ত হেদায়েতের উপর নিজে আমল করেছেন। এবং মানুষের নিকট একটি অনুকরণীয় মডেল উপস্থাপন করেছেন। যে মডেলকে সামনে রেখে রাসূল সা. এর ইত্তেবা করে তারা আল¬vহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে।
গ. আয়াতসমূহের শিক্ষা প্রদান এবং ব্যাখ্যা বিশে¬ষণ করা : অর্থাৎ কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা ও বিশে¬ষণ। আল¬vহর বান্দাদের নিকট কুরআনের নিগূঢ় অর্থ ও মূল বক্তব্য তুলে ধরা। তিনি সা. কুরআনের প্রাথমিক শ্রোতাদের ভুল ধারণা ও অন্তরলোকে উত্থিত নানা ধরনের বাতিক অপনোদন করেছেন, তাদেরকে আল কুরআনের আলোকে সুশিক্ষিত করে তুলেছেন। তাদের বুদ্ধিবৃত্তির এবং আমলী আচরণগত জটিলতা নিরসন করেছেন, তাদের হৃদয়ে প্রশান্তির আয়োজন করেছেন; তাদেরকে এই কিতাবের এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের এর দাবীসমূহের, এই কুরআন প্রদত্ত কর্মসূচী ও সংশোধন পদ্ধতির, এই কুরআনের আলোকিত জীবন দর্শনের এবং কুরআনী জীবন বিধানের এক একজন সেনানীতে রূপান্তরিত করেছেন।
নবী করীম সাল¬vল¬vহু আলাইহি ওয়া সাল¬vম উপরোক্ত তিনটি কাজ আঞ্জাম দিয়ে গেছেন। তিনি সা. কুরআনের দাওয়াতকে সম্প্রসারিত করেছেন এবং একটি বিপ¬বী আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন যে আন্দোলনের কথা কুরআন বলে। পবিত্র কুরআনের পথে চালিত করে নবী করীম সা. ব্যক্তিগত জীবন এবং সামাজিক পরিমন্ডলের চেহারাই বদলে ফেলেন। ইসলামী সমাজ এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে তিনি সা. ইতিহাসের সেই নবযুগের সূচনা করেন, যে জন্য হেরা গুহায় নূরের সেই কিরণ বিকিরণ করতে শুরু করেছিলো। তা’বীল এবং ব্যাখ্যা বিশে¬ষণের ব্যাপারে হুযুর সা. যা কিছু করেছেন এরই নাম কুরআনের তাফসির।

পরবর্তী যুগে এবং যুগসমূহে তাফসির সাহিত্যবিষয়ক যেসব কাজ হয়েছে, তার সবই রাসুলূল¬vহ সা. প্রদত্ত তা’বীল ও ব্যাখ্যা বিশে¬ষণের আলোকেই করা হয়েছে। মৌলিকভাবে সকল তাফসির সাহিত্য রচয়িতাগণ নিম্মোক্ত তিনটি দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কাজ করে গেছেন: প্রথমত : এটা পরিষ্কারভাবে উত্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, হুযুর সা. এবং আপনার অনুবর্তী সূচনাকালের সাহাবায়ে কেরামবৃন্দের কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং এর বিভিন্ন আদেশ নিষেধসমূহের কী অর্থ বুঝেছিলেন। পবিত্র কুরআনের আভিধানিক তাফসীরসমূহ এবং মাসুর তাফসির (বর্ণনামূলক তাফসির সাহিত্য) এ বিষয়ের বিশেষ রূপ আমাদের সামনে তুলে ধরে।

দ্বিতীয়ত : প্রত্যেক যুগে যে সকল নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে সকল সংকট সৃষ্টি হয়েছিলো সেসব কিছু সেযুগেই পবিত্র কুরআনের হেদায়েত অনুযায়ী সমাধান করবার চেষ্টা করা হয়েছে। মাসলা মাসায়েল এবং তির্যক প্রশ্ন সমূহ মাথায় রেখে আলিম সমাজ পবিত্র কুরআনের দিকে চিন্তা, গবেষণা ও বিচার বিশে¬ষণের হাত বাড়িয়েছেন, এটা জানার জন্য যে সংশি¬ষ্ট বিষয়ে কুরআন কী দিক নির্দেশনা দেয়। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন যাপন প্রণালী এবং আচার ব্যবহার পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে কুরআন থেকে গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি যুগে মানবতার সামনে কুরআন প্রদর্শিত জীবন যাপনের রাজপথ উন্মুক্ত করে তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের ফিকহী তাফসিরসমূহ এ দিকটি খেয়াল রেখেই রচিত হয়েছিলো। আমরা এখানে ফিকাহ শব্দটিকে অত্যন্ত ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছি। আদেশ আনুগত্যের চেতনায় ফিকহী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে আদেশ নিষেধসমূহ, মাসলা মাসায়েল এবং অনুগত মানসিকতা। বুদ্ধিবৃত্তিক তাফসীরসমূহও মূলত এই সিলসিলার অংশ। এসব তাফসির দ্বারা বলা হয়েছে কি ধরণের আবেগ ও মানসিক অবস্থায় এই আদেশ নিষেধ জারী করা হয়েছে।

তৃতীয়ত : প্রতিটি যুগে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর এবং সেই যুগের বিশেষ নীতি আদর্শ সংকট-সম্ভাবনাকে আমলে এনে চেষ্টা করা হয়েছে পবিত্র কুরআনের কৌশলগত শিক্ষাসমূহ পরিষ্কার করে তুলে ধরার। সাথে সাথে সন্দেহ ও সংশয় সমূহ দূরীভূত করার চেষ্টা করা হয়েছে, বিরুদ্ধবাদীদের আপত্তিসমূহ, স্বল্পজ্ঞানী ও নাদান লোকদের দ্বারা প্রচারিত বিভ্রান্তিসমূহ নিরসন করবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সময়ের সাথে উত্থিত ফিতনাসমূহ কুরআনের আলোকে সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিজ্ঞানের উৎস ও ভান্ডার হতে আহরিত উপাদান তাফসিরে সন্নিবেশিত করে শিক্ষার্থীগণের নিকট আল কুরআনের শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও সমৃদ্ধ করা হয়েছে। এজাজে কুরআন বিষয়ক তাফসির, কালামী ও মানাযিরানাহ তাফসির এইসব প্রয়োজন পূরণেরই প্রচেষ্টা।

উপরোক্ত তিনটি দিক প্রত্যেক যুগে আলিম সমাজকে তাফসির রচনা ও ব্যাখ্যা বিশে¬ষণের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ও নাজুক কাজের প্রতি বারংবার মনোনিবেশ করিয়েছে। এসব প্রচেষ্টা এবং জ্ঞান গবেষণার ফলশ্রুতে ও প্রভাবে বেশুমার জ্ঞান- বিজ্ঞান ও শাস্ত্রের শাখা প্রশাখা সম্প্রসারিত হয়েছে, ব্যাপকতা লাভ করেছে, উন্নতির পথে এগিয়ে গিয়েছে। কুরআনের শব্দাবলী, বাক্যগঠন প্রণালী এবং ছন্দ বোঝার জন্য অনেক অভিধান রচিত হয়েছে। এর বাণী তুলে ধারার জন্য ভাব প্রকাশের ও কথা বলার নান্দনিকতার উদ্ভব হয়েছে; সর্বোপরি সাহিত্য রচনার অঙ্গনে সমালোচনা সাহিত্য নামক এক নতুন বিষয়ের অবতারণা ঘটেছে। এ কিতাব সংরক্ষণ, প্রচার, প্রচারণা ও মূদ্রণের জন্য কাতেবগণের অসামান্য অবদানে সৃষ্টি হয়েছে এ সম্পর্কিত লিখন শৈলীর।

আধুনিক ক্যালিগ্যাফী কুরআনের আয়াতসমূহের সৌন্দর্য বোধ এবং নন্দন তত্ত্বকে তুলে ধরেছে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কিসসা ও কাহিনীসমূহের উত্তম মর্ম উপলব্ধির জন্য ইতিহাস, ভূগোল ও তুলনামূলক মতবাদ সমূহের বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা উন্নতি লাভ করেছে। উসুলে ফিকহ, ফিকহ এবং তাসাউফ এর ন্যায় শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে পবিত্র কুরআন হতে আদেশ- নিষেধ বের করা আহকামসমূহ বোঝা এবং তার শিক্ষার অনুসন্ধান করতে গিয়ে। হাদীস শাস্ত্র, আসমাউর রিজাল, সহীহ হাদীস অনুসন্ধান, যঈফ ও মওযু হাদীসের শাস্ত্রজ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে তাফসিরে নববীকে জানার জন্য এবং এই ব্যাপারে সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে হুযুর পাক সা. এই কুরআনের পরে কীভাবে আমল করেছেন এবং কী ব্যাখ্যা বিশে¬ষণ করেছেন। কুরআনের নির্দেশিত আইনসমূহ ও উত্তরাধিকার বণ্টনের বিধি ব্যাখ্যা করবার জন্য ইলমে ফারায়েয এর উদ্ভব হয়েছে। কুরআনের প্রতিরক্ষার খাতিরে ইলমে কালামকে সবাই জেনেছে এবং চিনতে পেরেছে। এমনকি কুরআনের ব্যাখ্যা বিশে¬ষণের আলোকে জ্ঞানবিজ্ঞান এবং শিল্পকলার সেই শাখাসমূহ যতটুকুই কুরআনের আশ্রয় লাভ করেছে, সেগুলো ততটুকুই তাফসির সাহিত্যের উপাদান ও রেফারেন্সে পরিণত হয়েছে। তাফসির সাহিত্যের কেন্দ্রীয় গুরুত্বের বিচারে ওসব কুরআনের খাদেমই ছিলো। কিন্তু সেসব কলা সমূহের ক্রমিক ক্রমবৃদ্ধি এমন হতে থাকলো যে এক পর্যায়ে তাদের নিজস্ব স্বকীয়তার কারণে কুরআনের মূলস্রোতই তারা হারিয়ে ফেলে।