বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যেখানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০% মুসলিম। এদেশে ইসলাম আগমনের ইতিহাস অনেক পুরাতন। আঠার এবং উনিশ শতকে মুসলিম বণিকেরা চীনে ব্যবসা-বাণিজ্য করত এবং তারা এ জন্য চট্টগ্রাম এলাকা ব্যবহার করত। তাদের মাধ্যমেই এ এলাকাতে ইসলাম প্রচারের সূচনা হয়।
  
বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবতই ইসলাম প্রিয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, যথপোযুক্ত ইসলামিক জ্ঞান এবং কুরআন হাদিসের জ্ঞানের সুষ্ঠ চর্চার অভাবে বেশির ভাগ মানুষের মাঝে জীবন সম্পর্কে ইসলামের সঠিক ধারণার অভাব রয়েছে। 

আল্লামা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী ইসলামকে তার মূল মুসলমানদের পতন যুগে এত সব ফেতনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল যার ফলে মুসলমান সত্যিকার ইসলাম থেকে দূরে সরে পড়েছিল। তার একটি দ্বীন ও দুনিয়ার পৃথককরণ। তার ফলে একজন মুসলমান, এমনকি একজন আলেমের মুখেও এ বিদ্রপবাণী শুনা যেত - শাসন ক্ষমতা? পার্লামেন্ট? বিচার বিভাগ? লেনদেন? এ সবের সাথে ইসলামের কি সম্পর্ক? এতো সব দুনিয়ারী ব্যাপার। নামাজ পড়, রোযা রাখ, পারলে হজ্জ কর, যাকাত দাও, কালামে পাক তেলাওয়াত কর, তাসবীহ-তাহলীল কর- এইতো ইসলাম। এ পতন যুগে সর্ব প্রথম মাওলানা মওদূদীর মুখে এ শ্লোগান ধ্বনিত হয়- ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ভুলে যাওয়া সবক তিনি শিখিয়ে দেন এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আজ এ শ্লোগান ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, ইসলামের মৌল শিক্ষাই এই যে, জীবনের এমন কোন দিক ও বিভাগ নেই, যা ইসলামের আওতার বাইরে। মাওলানা মওদূদীর সবচেয়ে বড় অবদান এই যে, তিনি মুসলমানদের মধ্যে কুরআন উপলব্ধি করার প্রেরণা সৃষ্টি করেছেন।